আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের দুটি লেভেল ক্রসিং এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ত এই রেলপথে নেই কোনো গেটম্যান কিংবা কার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই অরক্ষিত ক্রসিংগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুরক্ষার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নিয়মিত প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন: লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ইয়াসিন আলীর চিকিৎসা সহায়তার আবেদন

ফুলবাড়ী গ্রামের মধ্য দিয়ে ঝনঝনিয়া, মাশলিয়া, কাষ্টভাঙ্গা, বেলেঘাট ও বারবাজারসহ অন্তত ছয়টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। অধ্যক্ষ মাওলানা ওলিয়ার রহমান জানান, এই এলাকাটি বেশ জনবহুল এবং প্রতিদিন প্রায় ১১ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী—যাদের মধ্যে বারবাজার কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কাষ্টভাঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে—তাদের প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে মিসাইল হামলার আতঙ্কে নির্ঘুম প্রবাসী বাংলাদেশিরা

স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ হোসেন বলেন, প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই রেললাইন পার হই। এখানে ট্রেনের গতিবেগ অনেক বেশি, কিন্তু কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। পথচারী মুশফিকুর রহমান জানান, মহাসড়কের পাশের এই পথটি ছয়টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ফুলবাড়ী গ্রামের তিনটি ক্রসিংয়ের মধ্যে কেবল একটিতে গেটম্যান থাকলেও বাকি দুটিতে নেই কোনো সুরক্ষাবেষ্টনী। ট্রেনের হুইসেল শুনলেই স্থানীয়রা ট্রেন আসছে কি না তা বুঝে নিজ দায়িত্বে অপেক্ষা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ক্রসিংগুলোতে সতর্কীকরণ বোর্ড থাকলেও তা গাছের লতা-পাতায় ঢেকে গেছে, ফলে দূরের পথচারীদের তা চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেললাইন স্থাপনের পর থেকেই এখানে স্থায়ী কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফুলবাড়ী রেলগেট দুটি বারবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যস্ত রুট দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন লোকাল, মালবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন চলাচল করে। অথচ বছরের পর বছর পার হলেও ক্রসিংগুলো নিরাপদ করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশন মাস্টার শাহাজান আলী বলেন, এখানে গেট না থাকায় কোনো গেটম্যান নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। বিকল্প হিসেবে ক্রসিংয়ের দুই পাশে সতর্কীকরণ বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। তিনি সবাইকে চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ী গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগ না দিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।