৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে টয়োটা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এই বিনিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, উন্নত প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে কেন ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও আন্দোলন
প্রতিনিধিদল জানায়, টয়োটার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় শহরে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ এই মূল দর্শন সামনে রেখে তারা ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (HEV) উৎপাদনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে সক্ষম হবে। এছাড়া তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে টয়োটার আগ্রহের কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: মশা নিধনে ৪৮ হাজার কমিটি কাগজে থাকলেও বাস্তবে অকার্যকর
প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তিনি জানান, সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে একটি স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

