ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানাপোড়েনের অষ্টম মাসে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই পদক্ষেপটি সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে অস্থিরতার আশঙ্কা
এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে রওনা হয়েছে। এর ঠিক একদিন পর দুই হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা নিয়ে মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) গন্তব্যে যাত্রা শুরু করে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বহর মোতায়েনের ফলে স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিকসহ অতিরিক্ত প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা এই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এর এক দিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) রওনা হয়েছে, যাতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, কূটনীতির পথ খোলা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় প্রস্তুত থাকে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুইটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান নেবে। এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পেন্টাগনের এই অবস্থানের দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে কেন ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও আন্দোলন
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো হামলার নির্দেশ দিলে তা বাস্তবায়নের জন্য বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। হোয়াইট হাউসের সূত্র বলছে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখান থেকে সামরিক সরঞ্জাম বা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ তাকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলে সামরিক নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুসারে, বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি স্থায়ী ঘাঁিসহ মোট ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে লেবানন সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এই অঞ্চলে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছিল, যেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার সেনার উপস্থিতি ছিল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেন, যার ধারাবাহিকতায় এর আগে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীসহ বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ আরব সাগরে পাঠানো হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।

