আজকের সর্বশেষ সবখবর

সৌদি আরবে মিসাইল হামলার আতঙ্কে নির্ঘুম প্রবাসী বাংলাদেশিরা

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থানরত প্রবাসীরা বর্তমানে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি বাহিনীর নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কায় রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় কর্মরত বাংলাদেশিরা চরম মৃত্যুভয়ে রয়েছেন। গত ১০ই অক্টোবর রাতে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ লক্ষ্য করে চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। এই ঘটনায় বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মদ ও কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী নামে দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারান। আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় তাদের মতো অনেক প্রবাসীই কাটাচ্ছেন নির্ঘুম রাত। এতে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন প্রবাসীরা।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

প্রবাসীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রিয়াদে কর্মরত নাজমুল ইসলাম জানান, তারা নিজে এবং তার পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক মৃত্যুর আশঙ্কায় থাকেন। তার মতে, দিনে অন্তত আট থেকে দশবার সতর্কবার্তা পাওয়ার আতঙ্ক নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যেতে হয়। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানান প্রবাসী আরিফুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন। তারা জানান, কাজের প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বের হতে হলেও মাথার ওপর মিসাইল পড়ার ভয় তাদের তাড়া করে ফেরে। বিশেষ করে প্রবাসে ইকামার খরচ ও পরিবারের জীবিকার কথা চিন্তা করেই তারা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও দেশে ফিরতে পারছেন না। নোয়াখালীর আরেক প্রবাসী জানান, যারা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হননি, তারা তাদের মানসিক অবস্থার ভয়াবহতা অনুভব করতে পারবেন না। কিছুক্ষণ পরপরই মোবাইলে ভেসে আসছে হুতিদের মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা। কখন মিসাইল এসে পড়ে- এই আতঙ্ক নিয়ে যাচ্ছেন কর্মক্ষেত্রে। ভীতিকর এমন পরিস্থিতির মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তাদের। উদ্বিগ্ন দেশে থাকা এসব প্রবাসীর স্বজনরাও। দিনের মধ্যে আট-দশবারই এমন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় সবাইকে।

আরও পড়ুন: আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন: ওমর সানী

হামলার পর থেকে আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (প্রবাসী কর্মী) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নওগাঁর সাফকাত রহমান ও কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলাম। রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকার মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। এছাড়া প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি এবং কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসাধীন অন্যান্যদের মধ্যে কিং খালেদ মেডিকেল সিটিতে ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম রয়েছেন। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার চিকিৎসাধীন। এছাড়া এজতাহ সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিবের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে এই হামলার পর সৌদি আরবে যাতায়াতকারী প্রবাসীদের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট বারবার বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় দেশে ছুটিতে আসা অনেক প্রবাসী যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। অনেকে বিকল্প পথে বা অন্য কোনো বিমানবন্দরের মাধ্যমে সৌদি আরব পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বাড়ছে অস্বস্তি ও হতাশা।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।