আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীতকাল কি এবার উষ্ণ থাকবে? কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:20 am
Link Copied!

অক্টোবরের শেষ দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় কুয়াশার দেখা মিললেও, এবারের শীতের প্রকৃতি নিয়ে ভিন্ন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান এল নিনোর প্রভাবে শীতকাল এবার তুলনামূলক উষ্ণ ও কম স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ৮ ও ১৮ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে, যা পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলেছে। শীতকাল ছোট হচ্ছে, ৭০ বছর পর কেমন হবে। প্রশ্ন হলো, এবারের শীত কি আগের মতো কাঁপাবে।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানিয়েছেন, জুন মাস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনোর অবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বর্ষাকালে অনিয়মিত বৃষ্টি ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-র সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্যানুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর প্রভাবে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় নিনো ৩.৪ অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: মেসির শেষ ম্যাচে আকাশজুড়ে ড্রোন শো, বিদায়বেলায় আবেগের জোয়ার

আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনোর সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের অতিরিক্ত তাপমাত্রা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে প্রভাব ফেলে। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের এই পরিবর্তনের ফলে সামগ্রিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, এবার গড় তাপমাত্রা ১৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চলে সাধারণত তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলেও এবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের স্থায়িত্ব কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এপ্রিল–মে মাসে যে গরম গেছে, সে সময় হাতে গোনা কয়েক দিন বাসায় এসি চালিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে থাকেন তিনি। ফরহাদ বলছিলেন, ‘এবার গ্রীষ্ম কিছুটা সহনীয় ছিল।

আরও পড়ুন: কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি, সাকুরা সুপারমার্কেট ১০ দিন বন্ধ

এল নিনো কোনো নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়া নয়, বরং প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি জটিল মিথস্ক্রিয়া। স্বাভাবিক সময়ে নিয়মিত বাতাস সমুদ্রের উষ্ণ পানি পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়, কিন্তু এল নিনোর সময় সেই বাতাস দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের বায়ুচাপ ও বৃষ্টির ধরনে পরিবর্তন আনে। বাংলাদেশে বৃষ্টির ধরন শুধু এল নিনোর ওপর নির্ভর না করলেও, এর প্রভাবে বৃষ্টি অনিয়মিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দিনভর গরম, ভোরে কিছুটা শীতল বাতাস, কোথাও আবার কুয়াশা, এমন আবহাওয়ার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে শীতের দিকে এগোবে দেশ।

বজলুর রশীদ সতর্ক করে বলেছেন, শীতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলেও কুয়াশার প্রকোপ বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বৃষ্টি কম হলে বাতাসে ধুলিকণা ও দূষণের মাত্রা বেশি থাকে, যা ঘন কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং যান চলাচল ও জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

কৃষি খাতেও এই আবহাওয়ার প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। শীতকালীন ফসলের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার ঠান্ডা প্রয়োজন, যা এবার বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া শীতের শেষে বোরো মৌসুমে সেচের পানির চাহিদা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির পর তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা আগাম সতর্কতায় থাকতে পারেন।

সামগ্রিক বিচারে, চলতি বছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর মনে করছে, বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৩ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হতে পারে, যা দিনের উত্তাপ ও জলীয় বাষ্প নিচে আটকে রাখবে। এতে শীতকালীন নিম্নচাপ তৈরির প্রবণতা কমে আসবে এবং সামগ্রিক আবহাওয়া উষ্ণ থাকবে। তবে এল নিনো শক্তিশালী হলেও প্রতিটি অঞ্চলে আবহাওয়া একইভাবে পরিবর্তিত হয় না, তাই স্থানীয় আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।