আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত: বাস্তুচ্যুত ২ লাখের বেশি মানুষ

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:20 am
Link Copied!

ইয়েমেনে ফের তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ায় বাস্তুচ্যুতির এই হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ পরিবার গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা প্রায় ৭৬ হাজার থাকলেও মাস শেষে তা ১ লাখ ৪৫ হাজার পার করে। আইওএমের সর্বশেষ হিসাবে, ২ লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বাস্তুচ্যুতদের প্রায় সবাই ১ সেপ্টেম্বরের পর বাড়িঘর ছেড়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ তা বেড়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এদিকে খাদ্যসংকটও দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জ: আইজিপি

সংঘাতের ধাক্কায় ইয়েমেনের ১০টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তাইজ প্রদেশ। এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রায় ৫৭ শতাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া লাহজ, এডেন, আবিয়ান ও হোদেইদাহ প্রদেশের মানুষও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ জানিয়েছেন, জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হওয়া মানুষগুলো খাদ্য, পানি ও নিরাপত্তার তীব্র সংকটে পড়েছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মীদের জরুরি ত্রাণ তৎপরতা থাকলেও তহবিলের অভাবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের ১০টি প্রদেশে বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। মাঠপর্যায়ে সংস্থার কর্মীরা কাজ করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারে পর্যটনের জোয়ার, ৯ মাসে ২৬ লাখ ছাড়াল দর্শনার্থী

জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের প্রধান চাহিদা আশ্রয়। এছাড়া ৩৩ শতাংশ মানুষ খাদ্য, ২২ শতাংশ নগদ সহায়তা এবং ১০ শতাংশ নিরাপত্তাকে সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বাস্তুচ্যুতির এই প্রভাব কেবল ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই; প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। জিবুতিতে পৌঁছানোদের বড় অংশই নারী ও শিশু, যারা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই দীর্ঘ যাত্রা পাড়ি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রয়াত প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্যমতে, ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি চারটির মধ্যে তিনটি পরিবারই খাদ্য সংকটে ভুগছে। অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি ছাড়াই এডেন ও তাইজের উপকণ্ঠে এসে পৌঁছাচ্ছেন। ত্রাণের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইয়েমেনে স্বাস্থ্যসেবা চলমান রাখতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। তিনি দাতাদের দ্রুত অর্থ সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই অতিরিক্ত ভিড় থাকা নৌকায় সামান্য খাবার ও পানি নিয়ে দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ইয়েমেনে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযানে নামে। ২০২২ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সহিংসতা কিছুটা প্রশমিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।