নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় তারেক মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য তা নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত তরুণের মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু তরুণের সঙ্গে আবার মাদকে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে নেওয়ার পরপরই চাপাতি দিয়ে তাঁর মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকের আসক্তি ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব কাজ করেছে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় থাকা তারেক মাদক সেবনের দায়ে সেখানকার পুলিশের হাতে আটকের পর দেশে ফেরত আসেন। তবে দেশে ফেরার আড়াই বছর পরও তিনি মাদকের মরণফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতেন। নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই মা–বাবাকে মারধর করতেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দাকোপে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবদুর রশীদ জানান, ছেলের অকথ্য অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন পরিবার। বুধবার রাতের দিকেও নেশার টাকার জন্য তারেক বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা অলিউর রহমান হাত-পা বেঁধে তাকে বাড়ির পেছনের গোয়ালঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানেই ধারালো চাপাতির কোপে তারেক মারা যান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অলিউর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, মাদকসক্ত যুবকের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হাত–পা বেঁধে তাঁকে হত্যা করেছেন বাবা অলিউর রহমান।
রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুরো ঘটনায় এলাকাটিতে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

