আজকের সর্বশেষ সবখবর

হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:17 am
Link Copied!

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাঙ্কার ও বিভিন্ন প্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তন করে থাকছেন। তার নিরাপত্তায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত একটি দল নিয়োজিত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যের বরাত দিয়ে ইসরায়েলভিত্তিক ওয়াইনেট জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়ায় যুবরাজ নিজের নিরাপত্তাবলয় জোরদার করেছেন। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।

শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। হামলায় বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছাদের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালা রয়েছেন, যার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালাও ছিলেন।

রোববারও বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। বিমানবন্দর বন্ধ থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ৪ নম্বর টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ক্রমাগত হামলার কারণে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় একপ্রকার যুদ্ধকালীন পরিবেশ বিরাজ করছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে দেখা গেছে। শহরের আর্থিক অঞ্চলে কর্মরত পেশাজীবী, কূটনীতিক এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে টার্মিনাল ৪-এ আগুন ধরে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে সাইবার হামলায় অচল সুপারশপের ফ্রিজ, নষ্ট বিপুল খাবার

গত বৃহস্পতিবার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্র কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। যদিও তা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও জনবহুল এলাকায় এই হামলা বেসামরিক স্থাপনার চরম ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। সৌদি কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে আসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজপ্রাসাদ এবং জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

হুতিদের এই হামলা কেবল নিরাপত্তার সংকটই তৈরি করেনি, বরং যুবরাজের ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অধীনে থাকা অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিতেও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। পর্যটন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবকে গড়ে তুলতে নেওয়া নিওম প্রকল্পের মতো অনেক বড় উন্নয়ন উদ্যোগ এখন ঝুঁকির মুখে। এছাড়া তেল শোধনাগার এবং ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার ফলে লোহিত সাগরে তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। এরই মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

অক্টোবরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য বড় একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া দেশটির অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। ইতিমধ্যে চলতি বছরের প্রথম ভাগে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাসের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

সামরিক সংকটে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে থাকা সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ রয়েছে এবং সৌদি আরবের সহায়তায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দেননি। বিমানবন্দরের ঘটনার পর ট্রাম্প হুতিদের কর্মকাণ্ডকে ‘খুবই খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি আরব নতুন করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহের পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত সমাধানের পথ খুঁজছে। রিয়াদের মতো সুরক্ষিত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত এবং যুবরাজের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘটনা বিশ্ববাজারে সৌদি আরবের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানও খতিয়ে দেখছে দেশটি।

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।