ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা হ্যাক করে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই সাইবার হামলার ফলে ফ্রিজারগুলোতে থাকা তাজা ও হিমায়িত খাবারের বিপুল মজুত নষ্ট হয়েছে এবং অনেক স্থানে ফ্রিজ থেকে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। ইন্টারমার্শে, কো-অপারেটিভ ইউ এবং ই. ল্যক্লের্কের মতো শীর্ষস্থানীয় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিপত্তি নিশ্চিত করেছে। হ্যাকাররা দূর নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে রেফ্রিজারেশন সিস্টেমের বরফ গলানোর প্রক্রিয়া চালু করে দেয়, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফ্রিজের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। এতে বিভিন্ন দোকানে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
আরও পড়ুন: হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ফ্রান্স সরকার। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্ন এই সাইবার হামলার ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে (এএনএসএসআই)। প্রাথমিক তদন্তে এএনএসএসআই জানিয়েছে, ড্যানিশ প্রতিষ্ঠান ড্যানফসের সরবরাহ করা রেফ্রিজারেশন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে গুরুতর ত্রুটি ছিল। ড্যানফস কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, ফ্রান্সে তাদের সীমিতসংখ্যক সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, যেসব ইউনিটে এই হামলা হয়েছে সেগুলোতে পুরোনো ফার্মওয়্যার চলছিল এবং গ্রাহকদের নিয়মিত সিস্টেম আপডেট ও পুরোনো সরঞ্জাম পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রটি জানায়, ড্যানিশ কোম্পানি ড্যানফসের সরবরাহ করা সফটওয়্যারে একটি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে এএনএসএসআই।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
আরও পড়ুন: দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল
এদিকে, গত ৯ই আগস্ট সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারোটি তাদের এক গবেষণায় ড্যানফসের সিস্টেমে থাকা এমন দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছিল, যা ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই পুরো সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এই গবেষণার তথ্য প্রকাশের পরপরই এমন ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে ড্যানফসের কাছে পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করেছে। ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতাদের ফেডারেশন (এফসিডি) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েকটি দোকান পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকায় রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো জায়গা থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
কেবল ফ্রান্স নয়, এই সাইবার হামলার প্রভাব পড়েছে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেকুইয়া থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফেলিক্স এইমে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, একই ধরনের হামলায় স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং জার্মানির সুপারমার্কেটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজারগুলো সাধারণত ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে সাইবার হামলাকারীরা।

