পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আগস্ট ২০২৬ মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সভাপতিত্ব করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি এতে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট ২০২৬ মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এডিপিভুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্প সাহায্য ও সরকারি তহবিলসহ (জিওবি) মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার প্রকল্পের রূপরেখা পর্যালোচনা করা হয়। পার্বত্য অঞ্চলের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সমতার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি জনপদকে কোনোভাবেই শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য নিরসনে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে রাজধানী ঢাকার শিক্ষার্থীদের মতো রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবীরাও সমান সুযোগ পাবে। তিনি পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট দূর করতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের নারীরা দীর্ঘদিন ধরে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে আসছেন।
পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে অগ্রগতির চিত্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভূমিধস মোকাবিলায় টেকসই প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। ভবিষ্যতে পাহাড়ের মেধাবী সন্তানরা ডাক্তার, প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। এতে যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকারসহ সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

