মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়ায় চলমান একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়ামোদী যুবসমাজ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা টুর্নামেন্টটি পুনরায় চালুর জোরালো দাবি জানান। স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: মব–সংস্কৃতি: জনতা কি শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?
উল্লেখ্য যে, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-১)’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল। গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মোট ১৬টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং প্রথম রাউন্ডের খেলাগুলো সফলভাবেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ টুর্নামেন্টের সব কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: খুলনায় ছিনতাইকারীদের কোপে এসআই আহত, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়
মানববন্ধনে স্থানীয় ফুটবলার নিলয় বলেন, আমি নিজেও একটি দলের হয়ে খেলছি। মাদক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। কোনো ভিত্তিহীন বিশৃঙ্খলার অজুহাতে টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম জানান, এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের হয়ে মোট ২৭৪ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তিনি টুর্নামেন্ট পুনরায় চালু করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন। আমরা আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—দয়া করে টুর্নামেন্টের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
টুর্নামেন্ট বন্ধের বিষয়ে গজারিয়া থানার ওসি নকীব আকরাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ নিজেরা খেলা বন্ধ করেনি; বরং গুয়াগাছিয়ার স্থানীয় লোকজনই খেলা বন্ধ করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি যতটুকু তথ্য পেয়েছেন তাতে এলাকার অধিকাংশ মানুষই এই টুর্নামেন্টটি চলমান রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

