জেলা প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে মাদক নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশের শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার অরিত্র কুণ্ডুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কিছু সদস্য এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি মাদক কারবার ও পুলিশের অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে
গত ২৮ সেপ্টেম্বর “ইজিবাইক চালক থেকে কোটিপতি, নেপথ্যে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ”, ৬ অক্টোবর “মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে ‘বাণিজ্য’, প্রশ্নের মুখে ডিবির ভূমিকা” এবং সর্বশেষ ৭ অক্টোবর “মামলা-রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডুকে বিভিন্ন বিদেশি কোড নম্বর ব্যবহার করে কল করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের জেরে ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন, রাকিব হাসান ও আশীষ দাসসহ কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্য এবং তাদের লালিত মাদক কারবারিরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই হয়রানি চালাচ্ছে।
তারা সাংবাদিক অরিত্রকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটানো, পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, শৈলকুপার ফুলহরিতে অবস্থিত তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার ৭৮ বছর বয়সী অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকেও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগে জানান।
এছাড়াও ঝিনাইদহ ডিবির ওসি শরীফুল ইসলাম ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদককে কল করে অরিত্র কুণ্ডুকে মাদক কারবারিসহ নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, গত কয়েকমাস ধরে ডিবি পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা মাদক কারবারিদের লালন পালন করছেন। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এসব ‘জানার পরেও’ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করলে উল্টো সাংবাদিকদের ফাঁসাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এটা মোটেও কাম্য নয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কলম রোধ করে পুলিশের অপকর্মের পথ প্রশস্ত করা মানে দেশে দুর্নীতি আরও বেশি বাড়তে থাকবে। তাই এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হতে হবে।
সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডু বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমি ডিবি পুলিশের বিপথগামী কয়েকজন সদস্যদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো মতামত নেই। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া যাবে।”
তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়াও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ করে থাকলে তদন্ত হবে। তদন্তে মাদক কারবারে কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনও ছাড় নেই।
আরও পড়ুন: তাহিরপুর সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে সফল বিজিবি

