আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে এলো ৫৪০ টন মিথানল

DSF NEWS
DSF NEWS
October 6, 2026 1:18 pm
Link Copied!

দেশভাগের দীর্ঘ বিরতির পর ভারতের আসামের ডিব্রুগড় ও বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে পুনরায় নৌপথে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার আসামের চা-নগরী ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামক একটি জাহাজ ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এই নতুন যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই উদ্যোগকে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক করিডর হিসেবে ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যবহারের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিব্রুগড়ে বেড়ে ওঠা সনোয়াল বলেন, আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের বাঁশির শব্দ শুনে বড় হয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ডিব্রুগড় ছিল ভারতের ব্যস্ততম নদীবন্দরগুলোর একটি, যা কলকাতা থেকে চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনের মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগ এবং পরবর্তীকালে ১৯৫০ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে এই নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ডিব্রুগড় ঘাটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় আন্তঃসীমান্ত নদীপথে বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৭০ বছর পর আবারও এই পথে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, ডিব্রুগড় ঘাট আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে এবং এটি এখন কেবল সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, বরং ভারতের পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। কয়েক দশক ধরে যা ছিল না, তা হলো এটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা। ১৮৫৬ সাল নাগাদ কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এই শহরে আসত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’ চলাচল শুরু করে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে গুয়াহাটির পান্ডু ও ধুবড়ির মধ্যে সিমেন্ট পরিবহনের মাধ্যমে নিয়মিত জলপথে বাণিজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এরপর ২০২২ সালে টাটা স্টিলের বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায় এবং ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ প্রমোদতরি বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত পাড়ি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বগীবিল ও ধুবড়িতে নতুন কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা এই মিথানলবাহী যাত্রাকে সম্ভব করেছে। বর্তমানে ভারত তার জাতীয় জলপথের অবকাঠামো উন্নয়নে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন এবং পান্ডু বন্দরের আধুনিকায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বিশ্বমানের অবকাঠামো গড়ে তুলছি এবং একই সঙ্গে এর ঐতিহ্যও সংরক্ষণ করছি।

সর্বানন্দ সনোয়ালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। নদীপথে পরিবহনের ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি মহাসড়কে ট্রাকের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদারে ভারত এখন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনালটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই নৌযোগাযোগের পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেন সরকারকে ৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা সৌদি আরবের

আরও পড়ুন: পশুর হাটে বাড়ছে ঈদের আমেজ: তিন ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সারুলিয়া হাটের ইজারা সম্পন্ন

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।