আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধামইরহাটে বৃদ্ধা হালিমা হত্যা: ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫

DSF NEWS
DSF NEWS
October 23, 2026 2:44 am
Link Copied!

শাকিল, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে হালিমা বেগম (৬৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেতের আইলে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে মরদেহটি পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ তাঁকে হত্যার শিকার বলে ধারণা করে। এ সময় তাঁর এক কানের লতি কাটা এবং অন্য কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ওই দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলায় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

পুলিশ জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের বক্তব্য ও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন: কালকিনিতে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

সম্পদ ও কানের দুলের লোভে হত্যার পরিকল্পনা

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, হালিমা বেগম ছিলেন নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্ত। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বাবার বসতবাড়িতে ছোট ভাইয়ের বাড়ির পেছনে একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন। গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

পুলিশের দাবি, হালিমার গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, কানের দুল ও জমিজমার প্রতি লোভ এবং মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই ছোট ভাই মজনু ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরার পরিকল্পনায় পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে জড়ান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। এরপর অন্যরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে এবং ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

পরে কানের দুল নেওয়ার জন্য তাঁর এক কানের লতি কেটে এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে জানায় পুলিশ। এরপর মরদেহটি বাঁশঝাড়ের পাশে ফেলে রাখা হয়। পুলিশের দাবি, কানের দুলের একটি মজনু এবং অন্যটি হামিদুর নিয়ে যান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়নাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় অপরাধ দমন ও প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।