এম রাসেল সরকার:
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পশুর ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো।
এ বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে সর্বমোট ২৭টি পশুর হাট অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি হাট বসেছে।
২০২৬ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডেমরা সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটটির ইজারা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে জনদুর্ভোগ এড়ানোর লক্ষ্যে সারুলিয়া পশুর হাটটি ডিএসসিসির মূল অস্থায়ী হাটের তালিকা বা প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে হাট-বাজার বিধিমালা অনুযায়ী, এটি ইজারা বা খাস আদায়ের আওতাভুক্ত করা হয়। সরাসরি ইজারা বিজ্ঞপ্তি থেকে বাদ পড়লেও পরবর্তীতে তিন ধাপে উন্মুক্ত দরপত্র বা খাস আদায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই হাটের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানান, ইজারা প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দরপত্র বা শিডিউল বিক্রি এবং তা যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া সব নিয়মকানুন মেনে এবং শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই এই হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডেমরা আমুলিয়া ২০২৬ সালের জন্য হাটের ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডিএসসিসির ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. গোলাম হোসেন। এবারের ঈদে এই হাটের মূল ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা (এর সঙ্গে সরকারি ভ্যাট ও অন্যান্য প্রযোজ্য ফি যুক্ত থাকবে)। ঐতিহ্যবাহী সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটে ঈদের দিনসহ মোট পাঁচদিন কোরবানির পশু কেনাবেচা চলবে।
এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রধান প্রধান অনুমোদিত হাটগুলো হলো,
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি): ১টি স্থায়ীসহ মোট ১৬টি হাট,
গাবতলী পশুর হাট (স্থায়ী হাট), দিয়াবাড়ী (উত্তরা সেক্টর ১৬ ও ১৭ এর মধ্যবর্তী এলাকা), বসিলা (মোহাম্মদপুর বসিলা পশুর হাট), তেজগাঁও শিল্প এলাকা (হাসপাতাল সংলগ্ন মূল সড়ক এলাকা), মিরপুর ও কালশী এলাকা (নির্ধারিত ফাঁকা জায়গা), খিলক্ষেত, বাড্ডা, ভাটারা ও বসুন্ধরা সংলগ্ন এলাকা মহাখালী ও স্বদেশ প্রোপার্টিজ (আফতাবনগর সংলগ্ন নতুন দরপত্র এলাকা)।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি): ১টি স্থায়ীসহ মোট ১১টি হাট,
সারুলিয়া পশুর হাট (স্থায়ী হাট),
পোস্তগোলা শ্মশানঘাট (পশ্চিম পাশে নদীর পাড়ের খালি জায়গা), উত্তর শাহজাহানপুর (মৈত্রী সংঘ ক্লাবের খালি জায়গা), সাদেক হোসেন খোকা মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা, লালবাগ কিল্লার মোড় (বেড়িবাঁধ ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন শহীদ নগর নির্ধারিত স্থান), এছাড়া অন্যান্য অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে, রহমতগঞ্জ, আমুলিয়া, শ্যামপুর, কাজলা-মাতুয়াইল এলাকা, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, বনশ্রী ও গোলাপবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক কোলাহল ও ব্যস্ততা দেখা গেছে। কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ ও রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ হাটে এসে পৌঁছাচ্ছে।
হাটে এবার দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা তাদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু খুঁজছেন। অনেকেই সপরিবারে হাটে এসে দরদাম করে পশু কিনছেন। ক্রেতাদের মতে, কয়েক দফা দরদামের পর মাঝারি গরুর দাম কিছুটা সহনীয় মনে হলেও, বড় আকারের গরুর দাম এখনও বেশ চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান, এবার পর্যাপ্ত পশুর জোগান রয়েছে। তবে ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই মূল বেচাকেনা জমে উঠবে বলে তারা আশা করছেন। হাটের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি বড় হাটে পর্যাপ্ত পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পাশাপাশি, পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যাংক হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ এবং টাকা গণনার মেশিন স্থাপন করেছে। পশুর বিপুল অর্থ নিরাপদে লেনদেনের জন্য অনেক ব্যাংক ব্যবসায়ীদের মাত্র পাঁচ মিনিটে ব্যাংক হিসাব খোলার বিশেষ সুবিধাও প্রদান করছে।

