DSF NEWS Online ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতি আগামী পাঁচ বছরে ক্যাশলেস লেনদেনে বড় অগ্রগতি করবে বলে মনে করছেন এনআরবি ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা। সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকটি ডিজিটাল রূপান্তরকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তাও জোরদার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আধুনিক ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
এ ছাড়া রপ্তানিমুখী উৎপাদনে অর্থায়নে বিশেষ নজর রয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পেও অর্থায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল রূপান্তরকে কৌশলগত অগ্রাধিকার
তারেক রিয়াজ খান: গ্রাহকের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত সেবার প্রয়োজন বাড়ছে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন লেনদেনও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আমাদের ব্যাংক ডিজিটাল রূপান্তরকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তথ্য নিরাপত্তাকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে ডিজিটাল সেবা
প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ পথে দ্রুত দেশে পাঠানো এনআরবি ব্যাংকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষ করে ‘এনআরবি ক্লিক’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনাবাসী বাংলাদেশিরা সেবা নিতে পারছেন।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিক হিসাব খোলার সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিপিএস ও রেমিট্যান্স ইনসেনটিভ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ফলে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবি ব্যাংক উচ্চ স্থান দখল করে নিয়েছে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এটিকে ব্যাংকের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাহকের তথ্য ও আর্থিক সম্পদের নিরাপত্তা
গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তায় ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে আর্থিক সম্পদ সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকটি আইএসও সনদ অর্জন করেছে।
এ ছাড়া কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্টে পিসিআই ডিএসএস (PCI DSS) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদও করা হয়।
পাশাপাশি আইটি ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা বজায় রাখা হচ্ছে। ব্যাংকের আইসিটি নিরাপত্তা নীতিমালাও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহকের লেনদেনের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা
আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারিত্ব গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ক্যাশলেস ব্যাংকিং আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে রোড শো আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মার্চেন্ট অনবোর্ড ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বাংলা কিউআর’ প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এআই ও ফিনটেক বদলে দেবে ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং
ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ব্যাংকটি মনে করে। একইভাবে ওপেন ব্যাংকিং ও ফিনটেকও বড় পরিবর্তন আনবে।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর তাদের আর্থিক পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অফার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে ডিজিটাল লেনদেনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও জনপ্রিয় করতে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (IIPS) চালুর কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কর বা ভ্যাট ছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটও নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে, সরকারি নীতি সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নিশ্চিত হলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে আরও এগিয়ে যাবে।
এই সুবিধা ইতোমধ্যে বহু প্রবাসী বাংলাদেশি নিচ্ছেন। আমানত ও বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

