মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: শুভ মহালয়া ও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে খুলনার দাকোপ জুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দাকোপ উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৭৮টি পূজা মণ্ডপে এখন দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আবাহন ঘটবে।
এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসায় উপজেলার মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা গড়ার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বৈরী আবহাওয়া, রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালিপনাকে উপেক্ষা করেই প্রায় এক মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। ইতোমধ্যে বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গা সহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব গড়ার প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চালনা পৌর এলাকা ও ৯টি ইউনিয়নের ৭৮টি মণ্ডপে চলছে এ প্রস্তুতি। বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও কারিগরদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা শিল্পীরা দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভাস্কররা জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন প্রতিমা তৈরিতে লাভ কমে গেছে। এক একজন প্রতিমা শিল্পী বলেন, “বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটি কিনে একটি ৪০ হাজার টাকার প্রতিমা তৈরিতেই খরচ হয়ে যায় ৩০ হাজার টাকার বেশি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন রোদের আলোয় দ্রুত প্রতিমা শুকিয়ে ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করা হচ্ছে।
এরপরই শুরু হবে রং-তুলির আঁচড়।” দাকোপ উপজেলার বাজুয়া দাসপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি প্রশান্ত দাস জানান, “শারদীয় দুর্গোৎসবকে সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। আশা করছি, ভক্তদের অংশ গ্রহণে এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব পালিত হবে।

