আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:20 am
Link Copied!

বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করে জাতীয় দলের হয়ে সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ফুটবলের ‘কিং’ লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। এই ম্যাচে কেবল গোল ও অ্যাসিস্টই ছিল না, বরং ছিল একজন কিংবদন্তির আবেগময় বিদায়ের সুর। ম্যাচের এক পর্যায়ে পেনাল্টি থেকে গোল করার সময় তার নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো; প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এছাড়া দলের আরও একটি গোল তৈরিতে সরাসরি সহায়তা করেন এই তারকা। এর মধ্য দিয়ে মেসি আবারো প্রমাণ করেছেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সামর্থ্য এখনো তার মধ্যে অটুট রয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে বিদায়ের সিদ্ধান্তের কিছু কারণও জানিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। আর তিনি পেনাল্টিতে যে গোলটি করেন, সেটাও অন্যমাত্রার চমক। কারণ, প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে বুঝতেই দেননি বল কোন কোণায় ছুটবে।

আরও পড়ুন: আবেগঘন বিদায়: বেনিনকে হারিয়ে জয় দিয়ে শেষ মেসির অধ্যায়

ম্যাচ পরবর্তী ভাষণে মেসি জানান, আজকের এই বিদায় মুহূর্তটি তার জন্য খুবই কঠিন। এসময় তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত বাবাকে, যার মৃত্যু হয়েছে গত ৮ আগস্ট। এটিই ছিল মেসির বিদায়ী ভাষণে তার প্রথম ভাবনা। মাঠে ড্রোন লাইট শো’র মাধ্যমে মেসির ক্যারিয়ারের সোনালী মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়, যা দর্শকদের বিমোহিত করে। এরপর শিল্পী সোলেদাদ পাস্তোরুত্তি তার উদ্দেশে বিশেষ গান পরিবেশন করেন। বিদায়ী বার্তায় মেসি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আর্জেন্টিনার হয়ে আর খেলতে না পারাটা অত্যন্ত কষ্টের। আমি সারা জীবন এই মাঠে ফিরতে চাই। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা।’ তিনি জানান, এ মুহূর্তে তার ‘প্রথম ভাবনাটা’ তার বাবা সম্পর্কে। আর্জেন্টাইন এই তারকাকে মাইক্রোফোন দেয়া হয় ড্রোন লাইট শোর পর। আমি আপনাদের শপথ করে বলছি, সারা জীবন এখানে আসতে চাই।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: ইংরেজির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শট কম্পোজিশন

মেসি অকপটে জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফাইনালে দল সব সময় লড়াই করলেও স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপও তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে। তবে সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, তাদের সাহায্য ছাড়া বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হতো না। মাঠে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেই তারা যেকোনো শক্তিশালী দলের মোকাবিলা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে পুরো বিশ্বে ঘুরে বেড়াতে পেরেছি এবং সর্বত্র মানুষের উষ্ণতা পেয়েছি। আমি যেখানেই খেলেছি, মনে হয়েছে যেন নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছি।’ বিপুল খরচে গ্যালারি পূর্ণ রাখা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সি পরা আমি ভীষণ মিস করব। এখন আমি গ্যালারিতে বসে সতীর্থদের সমর্থন দেব।’ তার এই মন্তব্যের পর গ্যালারিতে ‘তুমি লাফ না দিলে তুমি একজন ইংরেজ’-এমন স্লোগান শুরু হয়।

দেশের মানুষের উদ্দেশে মেসির আহ্বান, আর্জেন্টিনা দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে সবার চেয়ে শক্তিশালী। তিনি সতর্ক করেন যে, সব সময় জয় আসবে না, কঠিন সময়ও আসবে। তাই সমর্থকদের আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান তিনি। বিদায়ী ভাষণের শেষ দিকে মেসি বলেন, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি এবং মিস করব। আর্জেন্টাইন হতে পেরে আমি গর্বিত।’ এরপর তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেন মেসি। মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থ খেলোয়াড়রা তাকে গার্ড অব অনার দিয়ে বিদায় জানান।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।