দেশজুড়ে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এই সাফল্যের কথা জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে কার্যক্রম শুরু করেছে, এটি তারই প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার যে অঙ্গীকার ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলায় নতুন সরকারের নেতৃত্বে কাজ করা হচ্ছে। হাম প্রতিরোধে সরকারের নেয়া কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেয়ার ১৫ দিন পর থেকেই সরকার যে লড়াই শুরু করেছে, তার অগ্রগতি ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: খামিস মুশাইতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই কোটি শিশুকে টিকা দেয়ার মাধ্যমেই সরকারের কার্যক্রম থেমে নেই। প্রতিটি শিশুর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান বিবেচনা করে কোনো শিশুই যেন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে ‘মপ-আপ ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করা হচ্ছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং অতীতে কোনো কারণে বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকাদান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের টিকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদায়ী ম্যাচে রেফারির কাছ থেকে লাল-হলুদ কার্ড পেলেন মেসি
আরও পড়ুন: মেসির শেষ ম্যাচে আকাশজুড়ে ড্রোন শো, বিদায়বেলায় আবেগের জোয়ার
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী সংস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি এবং ইউনিসেফ বিশেষ অবদান রাখছে। সবার সমন্বিত প্রয়াসের ফলে এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ডা. মুহিত বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানো এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতে জনগণের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক টিকাদান কর্মসূচিকে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

