মোঃ বেল্লাল হোসাইন নাঈম, স্টাফ রিপোর্টারঃ নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশনসহ প্রসূতি মায়েদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের গর্ভবতী নারী এবং তাঁদের স্বজনেরা। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশন ও প্রসূতি মায়েদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় গর্ভবতী নারীদের নিয়ে স্বজনেরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে জরুরি প্রসবের সময় কোথায় চিকিৎসা নেবেন, তা নিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে। সরকারি হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। পরে সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর যোগসাজশ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে সরকারি হাসপাতালে সিজার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুধু আর্থিক সমস্যাই নয়, প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রসবকালীন জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সেবা পেতে দেরি হলে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহেরীন বলেন, “সমস্যার কথা আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অন্য কোনো হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে সিজার কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সোনাইমুড়ীতেও গাইনি চিকিৎসক নেই।”
নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “নোয়াখালীর অনেক হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক নেই। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসক না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই।
আরও পড়ুন: রামপালের বাঁশতলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লাহর প্রচারণা
আরও পড়ুন: আল্লামা ইকবাল পিস অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন শ্রীমঙ্গলের কৃতীসন্তান আবেদ আহমেদ

