আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইস্তাম্বুলে বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে প্রবল বর্ষণের ফলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অতিবৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, আন্ডারপাস, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়ক ধসে পড়া এবং যানবাহন আটকা পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরজুড়ে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।

আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গোৎসব ও ফেলে আসা অসাম্প্রদায়িক শৈশব

বন্যার মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের প্রাণহানি ঘটেছে। ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়া এক নারীকে স্থানীয় পথচারীরা উদ্ধার করেছেন। সুলতানগাজি এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়লেও কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। উদ্ধারকর্মীদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি: রিয়াদের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘটনায়

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। বিশেষ করে বেসমেন্ট বা নিচতলার ফ্ল্যাটে যারা থাকছেন, তাদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাল, নদীর তীর এবং আন্ডারপাসের মতো বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। শহরে বৃহস্পতিবার সব ধরনের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা বুধবার রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুদের মায়েদেরও ছুটি দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সর্বোচ্চ ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। শহরের বেশ কিছু এলাকায় ১২ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে যানজট প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে দুর্যোগের মধ্যেও বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের সময় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি সহায়তা চেয়ে কল এসেছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা ও ১৫টি ভূমিধসের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার কবলে পড়ে ৪৭ জন আটকে পড়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে, সেই সাথে ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৬টি যানবাহন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং মেট্রো স্টেশনের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রদেশে আকস্মিক বন্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি রেখেছে। বন্যার পানি দুটি হাসপাতালেও পৌঁছেছে।

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।