আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি: রিয়াদের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘটনায়

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:16 am
Link Copied!

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সময় শনিবারের এই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিগত দিনের সংঘাতময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। সংখ্যালঘু শিয়া অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নিলে ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গত এক বছরে উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন এক অস্থিরতার যুগে ঢুকে পড়েছে, যা সাময়িক নয় এবং কোনোভাবেই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: ইস্তাম্বুলে বন্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটিই উপসাগরীয় কোনো দেশে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এমন বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির অভিজ্ঞতা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। এই ঘটনাটি মূলত গত এক বছর ধরে চলমান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ধারাবাহিক অবক্ষয়ের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শাসকদের জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে এক নতুন মোড় নিল। হতবিহ্বলজনক এই বিপুল মৃত্যু সেখানে এক রক্তাক্ত প্রতিশোধের আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সংকট শুরু হয়েছিল ঠিক এক বছর আগে। তৎকালীন মার্কিন পরমাণু স্থাপনায় হামলার জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এরপর ২০২৫ সালে কাতারের দোহায় কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনীর একটি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি ও একজন কাতারি নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি কূটনৈতিক রীতির অবসান ঘটে, যেখানে ধারণা করা হতো ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার মাধ্যমে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ২০২৫ সালে কোনো ধরনের সতর্কবার্তা বা সমন্বয় ছাড়াই দোহায় আঘাত হানে ইসরায়েল। গাজা ও ইরানের তুলনায় এখানে হতাহতের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম।

আরও পড়ুন: পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২১ শিশুসহ নিহত ২২

পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইরান কেন্দ্রিক সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি দাবানলে টেনে আনে। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে লজিস্টিকস ও রাজনৈতিক সহায়তার অভিযোগে তেহরান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালায়। এই হামলায় জ্বালানি কেন্দ্র, পানি শোধন প্ল্যান্ট ও সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পুরো অঞ্চলের জনজীবন ও অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে।

উপসাগরীয় দেশগুলো পর্যটন, ক্রীড়া ও বিনোদনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার যে বিশাল স্বপ্ন দেখেছিল, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই হামলা সেই বিনিয়োগ ও ভাবমূর্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ফর্মুলা ওয়ান বা বক্সিংয়ের মতো আয়োজনে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন বড় প্রতিবন্ধকতা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের ইতিহাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ; ২০১৪ সালে সানা দখলের পর থেকে সৌদি জোট ২০১৫ সালে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা সেই যুদ্ধের পর কিছুটা শান্তি ফিরে এলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। প্রথম দর্শনে এটি কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে।

বর্তমানে গাজার পরিস্থিতি এবং লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের পাশাপাশি হুতি বিদ্রোহীদের এই নতুন আগ্রাসন অঞ্চলটিকে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছে। পুরোনো মিত্রতার কাঠামো ভেঙে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এক নতুন ও ভয়াবহ শত্রুতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রভাব মোকাবিলা করা তাদের জন্য বড় বিপর্যয়কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।