ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার চালানো এসব পৃথক হামলায় তিন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজন নারী। এছাড়া সব মিলিয়ে ৩৬ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং বুধবার ৭ অক্টোবর রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: মানসিক চাপ থেকে কি জ্বর আসতে পারে?
আবহা বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুজন নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৮ জন। অন্যদিকে, কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় একজন সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আটজন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হামলার ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করছে। সংস্থাটি বলেছে, ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা এবং যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে কাতারের মধ্যস্থতা ও মক্কা জোটের প্রতি সমর্থন
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেছেন যে, রিয়াদের আকাশসীমায় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী প্ল্যাটফর্মটিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আরামকোর জ্বালানি ট্যাংকের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে বেষ্টনী বসানো হয়েছিল। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার তথ্য জানিয়েছিল সৌদি জোট। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল। একই সময়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি রাজধানীতে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মও ধ্বংস করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে সৌদি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংক ও অন্যান্য সরঞ্জামের চারপাশে নতুন খাঁচার মতো নিরাপত্তাবেষ্টনী বসানো হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেন সরকার এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। বুধবার ভোরে ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করেও হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, তবে সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ভূত এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত সব আমেরিকান নাগরিকের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে।

