চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে ইস্তাম্বুলের রামস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা। এই জয়টি সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার টানা দশম সাফল্য। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় ব্যবধানের জয় তুলে নেয় হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এর আগে আসরের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দ্বিতীয়টি গোল-উৎসবের বেশ কিছুক্ষণ পর ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হলেও ইস্তাম্বুলের রামস পার্ক তখন টগবগ করে ফুটছে, স্বাগতিক দর্শকদের চিৎকারে কান পাতা দায়। শুরুতে নিজেদের জালে দুবার বল জড়াতে দেখা বার্সেলোনা পরে এক এক করে দিয়েছে চার গোল। এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ জিতল হান্সি ফ্লিকের দল। ততক্ষণে ৬টিও নিয়ে হাত-শূন্য বার্সেলোনার।
আরও পড়ুন: আবুধাবি টেস্ট: জয় থেকে ৩ উইকেট দূরে বাংলাদেশ
ম্যাচের শুরুর দিকে নিয়ন্ত্রণ বার্সেলোনার কাছে থাকলেও খেলার স্রোতের বিপরীতে ২৮ মিনিটে গোল খেয়ে বসে তারা। রাফায়েল লিয়াওয়ের কাটব্যাক থেকে আসা বল আলেক্সেই বাতরাকভ জোরালো শটে জালে জড়ান, যা জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল। এরপর ৩৪ মিনিটে বারিস আলপার ইলমাজ আরেকটি গোল করলে গালাতাসারাই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার উদযাপন করে। তবে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়, যা বার্সেলোনাকে ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ দেয়। ১-০ নয়, বার্সেলোনাকে স্তব্ধ করে রীতিমতো ২-০ বানিয়ে ফেলেছিল গালাতাসারাই। কিন্তু ম্যাচশেষের স্কোরলাইনে সেই গালাতাসারাই-ই বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত।
আরও পড়ুন: রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন
বিরতির ঠিক আগে ৪৩ মিনিটে সমতায় ফেরে সফরকারীরা। দানি ওলমোর ট্যাকল থেকে বল পেয়ে কানসেলো ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো ক্রস থেকে হেড করে ফেরমিন লোপেজ দলকে এগিয়ে দেন। এর তিন মিনিট পর পেদ্রির পাস থেকে ইয়ামালের সহায়তায় অ্যান্থনি গর্ডন ব্যবধান ৩-১ করেন। প্রথম ২৫ মিনিটে গর্ডন ও দানি ওলমোর সৌজন্যে দুটি ভালো সুযোগও তৈরি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাতিল বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে করিম আদেয়েমি ব্যবধান ৪-১-এ উন্নীত করেন। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল আদেয়েমির কাছে পৌঁছালে তিনি কোনো ভুল করেননি। ম্যাচের শেষদিকে ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুসের শট গালাতাসারাইয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক উগুরজান চাকির কোনোভাবে প্রতিহত করেন। রক্ষণাত্মক দৃঢ়তায় ম্যাচ শেষে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। অথচ সেটিই ছিল গালাতাসারাইয়ের প্রথম লক্ষ্যে শট।
উল্লেখ্য যে, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফুটবলের ফাইনাল প্রায় ৩০ বছর পর আবারও বার্সেলোনায় ফিরতে চলেছে, যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

