আজকের সর্বশেষ সবখবর

দত্তকের আড়ালে রাজধানীতে সক্রিয় শিশু বেচাকেনার চক্র

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:19 am
Link Copied!

রাজধানীজুড়ে দত্তকের নামে চলছে এক অভিনব ও ভয়াবহ শিশু কেনাবেচার বাণিজ্য। বিভিন্ন হাসপাতালের দেয়াল, ফেসবুক পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে রীতিমতো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র। আলিশান অফিস ভাড়া করে আইনি বৈধতার ভুয়া আবরণ তৈরির মাধ্যমে তারা রীতিমতো পণ্যের মতো শিশু বেচাকেনা করছে। এই চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন। বর্তমান সমাজে বন্ধ্যত্ব বা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে সন্তান নিতে অক্ষম দম্পতিরাই মূলত এই চক্রের প্রধান টার্গেট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ভেজাল খাদ্যসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমান সমাজে অনেকেই বাচ্চা হওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছেন। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রমসহ বিভিন্ন কারণেও দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও অনেকে বন্ধ্যত্বতায় ভুগছেন। এসব পোস্টের নিচে অনেকে কমেন্টস করছেন-বয়স কতো লাগবে। কেউ আবার বলছেন- ‘সাত মাসের বাচ্চা আছে, ইনবক্সে আসেন’।

চক্রটি চাহিদামত শিশু সরবরাহ করতে পারদর্শী। তাদের ভাষ্যমতে, গ্রাহক ছেলে বা মেয়ে যেটাই চাক না কেন, সরবরাহ করা সম্ভব। বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়। ছেলে শিশুর জন্য সর্বনিম্ন ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ এবং মেয়ে শিশুর জন্য ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হয়। প্রতিটি লেনদেনে ব্রোকাররা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পান। এমনকি জন্মের আগেই গর্ভবতী মায়ের যাবতীয় খরচ বহনের বিনিময়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই শিশু হস্তান্তরের চুক্তিও করে এই চক্র। শুধু ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুই নয়, মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই শিশু বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের সক্রিয় গ্রুপগুলোতে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ‘আর্জেন্ট ছেলে বাচ্চা লাগবে’ বা ‘মেয়ে বাচ্চা চাই’ লিখে শত শত পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। এমনই একটি গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য এক চক্র নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে জানায়, তারা হাসপাতালের মেডিকেল বিলের বিনিময়ে নবজাতক বুঝিয়ে দেয়। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এমন দলিল তৈরি করা হয় যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। চক্রটি গর্ভ ভাড়া দেওয়া বা বিদেশে শিশু পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তারা সুকৌশলে নিজেদের মাধ্যম বা ব্রোকার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাচ্চা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে। সরকারি স্ট্যাম্পের ওপর উভয় দাতা ও গ্রহীতার নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে এফিডেভিট ও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া হয় শিশু।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা লেনদেনের মাধ্যমে শিশুকে চিরতরে হস্তান্তর বা কেনাবেচা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর ওপর যেকোনো ধরনের শোষণ, অবহেলা ও নিষ্ঠুরতা শাস্তির বিধান রয়েছে। আদালতের গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া এ ধরনের দলিল তৈরি করে শিশু আদান-প্রদান অবৈধ। এছাড়া ২০২৫ সালে ইউনিসেফের ‘স্টপিং দ্য ট্রাফিক’ প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি’র সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দত্তক দেওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।