আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসরায়েলে প্রায় ১৮ লাখ মুসলিম, তবুও গাজার ফিলিস্তিনিদের জীবন কেন এত ভিন্ন?

DSF NEWS
DSF NEWS
November 3, 2026 1:27 am
Link Copied!

নাগরিকত্ব, ভূখণ্ড, দখলদারত্ব ও রাজনৈতিক সংঘাতের জটিল বাস্তবতা; একই জনগোষ্ঠীর এক অংশ ইসরায়েলের নাগরিক, অন্য অংশ দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি

ইসরায়েলে বসবাস করছেন প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মুসলিম। তাদের একটি বড় অংশ দেশটির নাগরিক। তারা ভোট দিতে পারেন, নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন এবং ইসরায়েলের পার্লামেন্টেও তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। অথচ একই ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর আরেকটি বড় অংশ গাজা ও পশ্চিম তীরে বসবাস করে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান, অবরোধ, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

এখানেই সামনে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—একই অঞ্চলের মুসলিম ও ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এত ভিন্ন কেন? ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী মুসলিমদের সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের পার্থক্য কোথায়?

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ইতিহাস, নাগরিকত্ব, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।

ইসরায়েলে কত মুসলিম বসবাস করেন?

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ মুসলিম।

এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই আরবি ভাষাভাষী এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে বর্তমান ইসরায়েল ভূখণ্ডে বসবাস করছে।

তবে ইসরায়েলের সব মুসলিম বাসিন্দার আইনি অবস্থান এক নয়। অধিকাংশ আরব মুসলিম ইসরায়েলের নাগরিক হলেও পূর্ব জেরুজালেমের অনেক ফিলিস্তিনি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে বসবাস করেন।

ইসরায়েলের মুসলিমরা কি আরব দেশের নাগরিক?

না। ইসরায়েলের অধিকাংশ আরব মুসলিম সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান কিংবা অন্য কোনো আরব দেশ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে আসা মানুষ নন।

তাদের বড় অংশ ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের বংশধর। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় এবং তার পরবর্তী যুদ্ধের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে ‘নাকবা’ বা বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন।

সেই সময় অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার নিজেদের বসতভিটায় থেকে যায়। তাদের বংশধরদের একটি বড় অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের আরব নাগরিক হিসেবে পরিচিত।

একই ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব আলাদা কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে ইসরায়েল, গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান বুঝতে হবে।

ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী অধিকাংশ আরব মুসলিম দেশটির নাগরিক। তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, পার্লামেন্টে প্রার্থী হতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান।

অন্যদিকে গাজার ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের নাগরিক নন। পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদেরও অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিকত্বের অধিকারী নন।

পূর্ব জেরুজালেমের অনেক ফিলিস্তিনি স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করেন। তাদের আইনি মর্যাদা ইসরায়েলি নাগরিকদের থেকে আলাদা।

অর্থাৎ, একই ফিলিস্তিনি ঐতিহাসিক পরিচয়ের মানুষের মধ্যেও বসবাসের অঞ্চল ও আইনি অবস্থানের কারণে নাগরিক অধিকার ভিন্ন।

১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালের ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে হলে ১৯৪৮ এবং ১৯৬৭ সালের ইতিহাস জানা জরুরি।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবাদী বিরোধ ও সংঘাত চলছিল। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যুদ্ধের মধ্যে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এরপর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি দখলদারত্ব, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে।

গাজার মানুষ কেন ইসরায়েলের নাগরিক নন?

গাজা একটি পৃথক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। এখানকার মানুষ ইসরায়েলের নাগরিক নন।

২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে তাদের স্থায়ী বসতি ও সেনা প্রত্যাহার করে। তবে গাজার আকাশসীমা, সমুদ্রসীমা এবং অধিকাংশ প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থার ওপর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকে।

২০০৭ সালে হামাস গাজার কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর থেকে ইসরায়েল ও মিসরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অবরোধের কারণে গাজার মানুষের চলাচল ও পণ্য প্রবেশে গুরুতর সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি গাজাকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ইসরায়েল এই আইনি অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।

হামাস কারা এবং ফিলিস্তিনের সব মানুষ কি তাদের সমর্থক?

হামাস একটি ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন। ১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদার সময় সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০৬ সালের ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়লাভ করে। ২০০৭ সালে ফাতাহর সঙ্গে সংঘাতের পর গাজায় তাদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে ফিলিস্তিনের সব মানুষ হামাসের সদস্য বা সমর্থক নন। গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ রয়েছেন।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনে হামাস ছাড়াও ফাতাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মিনি ট্রাক আটক, মাছ ও নগদ টাকা লুটপাট।

৭ অক্টোবর ২০২৩: সংঘাতের নতুন অধ্যায়

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী গাজা থেকে ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালায়।

ইসরায়েলি তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্য ছিল হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং জিম্মিদের মুক্ত করা।

কিন্তু পরবর্তী সামরিক অভিযানে গাজার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। হাজার হাজার মানুষ নিহত হন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন এবং হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গাজার সাধারণ মানুষ কেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?

গাজার জনসংখ্যার বড় অংশ বেসামরিক মানুষ। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ও নারী রয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) নিয়মিত গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে খাদ্যসংকট, চিকিৎসাব্যবস্থার দুরবস্থা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বাধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করে, হামাস বেসামরিক স্থাপনার আশপাশে সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার বৈধতা দেয় না।

ইসরায়েলের মুসলিম নাগরিকরাও কি বৈষম্যের শিকার হন?

ইসরায়েলের আরব মুসলিম নাগরিকদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্ত।

আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্থানীয় অবকাঠামো, সরকারি বাজেট এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এ ছাড়া ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী আরব মুসলিম, খ্রিষ্টান আরব এবং দ্রুজ জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও এক নয়।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কি শুধু ধর্মীয় যুদ্ধ?

না। সংঘাতটির সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের সম্পর্ক থাকলেও একে শুধু মুসলিম ও ইহুদিদের যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়।

এর মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভূখণ্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ, ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার, ইসরায়েলের নিরাপত্তা, জেরুজালেমের মর্যাদা, বসতি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ।

ইসরায়েলের ভেতরে যেমন আরব মুসলিম ও খ্রিষ্টান নাগরিক রয়েছেন, তেমনি সব ইহুদি ইসরায়েলি সরকারের প্রতিটি নীতির সমর্থক নন। একইভাবে সব ফিলিস্তিনিও হামাসের সমর্থক নন।

আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান কী?

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ICJ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতি ও অব্যাহত উপস্থিতি সম্পর্কে পরামর্শমূলক মতামত দেয়।

এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা সনদসংক্রান্ত মামলায় ICJ গাজার ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। তবে এই আদেশ গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার চূড়ান্ত রায় নয়।

অন্যদিকে ICC ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিসংগত ভিত্তি পেয়েছে বলে জানায়। এটিও চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোথায়?

ইসরায়েলে প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মুসলিম বাস করেন, অথচ গাজার ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি—এই বাস্তবতার ব্যাখ্যা শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

নাগরিকত্ব, ভূখণ্ডের রাজনৈতিক অবস্থান, সামরিক নিয়ন্ত্রণ, দখলদারত্ব এবং দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী সংঘাত এই পার্থক্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

তবে রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা সামরিক সংঘাতের কারণে কোনো সাধারণ মানুষের জীবন ও মানবাধিকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ইসরায়েলি হোক কিংবা ফিলিস্তিনি—প্রতিটি শিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি বেসামরিক মানুষের জীবন সুরক্ষিত রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক দায়িত্ব।

এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয়; প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বাস্তবায়ন।

📌 ফ্যাক্ট: ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট

  • ইসরায়েলে মুসলিম জনসংখ্যা: ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার।
  • মুসলিমদের পরিচয়: অধিকাংশই ফিলিস্তিনি-আরব বংশোদ্ভূত।
  • ১৯৪৮ সালের নাকবা: প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন।
  • ১৯৬৭ সালের যুদ্ধ: ইসরায়েল পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
  • গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ: ২০০৭ সাল থেকে কার্যকর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ৭ অক্টোবর ২০২৩: হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন জিম্মি হন।
  • আন্তর্জাতিক বিচার আদালত: ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে ICJ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতিকে বেআইনি বলে মত দেয়।
  • সংঘাতের মূল বিষয়: ভূখণ্ড, রাষ্ট্রীয় অধিকার, নিরাপত্তা, দখলদারত্ব ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।

মানবিক বার্তা:

সব ফিলিস্তিনি হামাসের সদস্য নন এবং সব ইসরায়েলি নাগরিক তাদের সরকারের নীতির সমর্থক নন। ধর্ম, জাতি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, প্রতিটি বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

তথ্যসূত্র: Israel Central Bureau of Statistics, United Nations OCHA, International Court of Justice (ICJ), International Committee of the Red Cross (ICRC)।

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের ওয়েবসাইট লিঙ্ক

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।