চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে নিজ প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত অমানবিক অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং গতকালের পুরো রাতটি অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে কথা বলার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে নেই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার সকাল ৮টার দিকে, যখন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদল নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশপথে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেধে দেন।
আরও পড়ুন: দেশের পথে লন্ডন ছাড়লেন তারেক রহমান
বিকেল ৫টার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও ভেতরে উপাচার্য ও তার সঙ্গীরা আটকা পড়েন। ভিসি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’ স্লোগান দিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। দিনভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যান।
আরও পড়ুন: রামপালে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় সোমবার রাত ২টার দিকে ভিসির সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা ভেতরে প্রবেশ করে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষার্থীরা দুই দফা নাস্তা পাঠিয়েছেন। প্রশাসনিক ভবনে টানা ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা উপাচার্য ও তার সঙ্গীদের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এর আগে সকালেও এক দফায় তাদের জন্য নাস্তা পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: চার দশকে আবাসন খাতে আস্থার নাম এসইএল

