মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: অন্ধকার চিরে আশার আলো: একজন ডা. সুদীপ বালা এবং একটি পরিবর্তনের গল্প। দাকোপ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চতুর্দিকে যখন চরম অবহেলা আর দুর্নীতির ঘন অন্ধকার ছেয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই আশার মশাল হাতে আগমন ঘটেছিল ডা. সুদীপ বালার।যখন পুরো দেশের স্বাস্থ্যখাত নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন তিনি এই হাসপাতালে এসে এক অলৌকিক পরিবর্তন এনে দেখিয়েছেন। চিকিৎসাসেবার মান এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, আশপাশের ব্যবসায়ী ক্লিনিকগুলো সেবা দিতে না পেরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। একজন সৎ ও দক্ষ প্রধানের নেতৃত্ব যে একটা সরকারি হাসপাতালের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তিনি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আজ কোনো এক অজানা কারণে সুদীপ বালার এখান থেকে বদলি হয়ে চলে যাচ্ছেন। হয়তো তিনি অন্য কোথাও যাবেন, নতুন কোনো অন্ধকার দূর করবেন। কিন্তু দাকোপ বাসীর হৃদয়ের মণিকোঠায় যে ভালোবাসার আসন তিনি তৈরি করে গেছেন, তা চিরকাল অমলিন থাকবে। দাকোপ বাসীধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে সুদীপ বালার জন্য।আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর পুনরায় বিশ্বাস ফেরানোর জন্য। ডা. সুদীপ বালার কথা লিখে শেষ করার মতো নয়। এই বিশাল জনপদের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। চারপাশ যখন স্বাস্থ্য সেবা ক্ষেত্রে চরম অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর নীতিহীন অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল—ঠিক তখনই এই পরশ পাথরের আগমন ঘটে। যার সংস্পর্শে দাকোপের স্বাস্থ্য সেবার আমূল পরিবর্তন ঘটে। তিনি আর কেউ নন। তিনি হলেন ডা. সুদীপ বালা।সমগ্র দাকোপের স্বাস্থ্য খাত যখন নানা অনিয়ম ও সমস্যায় জর্জরিত, ঠিক সেই সময়ে এই প্রান্তিক হাসপাতালে এসে সূচনা করেছিলেন এক রূপকথার। তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতায় চিকিৎসা সেবার মান হাসপাতালের ভিতর এবং ফিল্ড পর্যায় পৌঁছে গিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। যেখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবার উপর আস্থা ফিরে পেয়েছে। একজন সৎ, দূরদর্শী ও কর্মী দরদি প্রতিষ্ঠান প্রধানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কাজ করতে সক্ষম হয়েছিলেন অনেকে। যার ফলে একটি সরকারি হাসপাতালের জরাজীর্ণ চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফিল্ড পর্যায়ে সফল ও টেকসই কাজ বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি হলো কর্মী বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। তৃণমূল বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন এবং নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাঁদের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য, মানসিক সুরক্ষা ও সঠিক মূল্যায়নের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যা তিনি সুচারু ভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কোনো এক অজানা নিয়তির টানে তিনি আমাদের ছেড়ে অন্য কোনো গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন। হয়তো নতুন কোনো জীর্ণ প্রান্তর নিজ হস্তে পরিপাটি করে স্বাস্থ্য সেবায় উদ্বুদ্ধ হবেন। দূর করবেন নতুন কোনো অন্ধকার। কর্মী বান্ধব তিনি কর্মীদের হৃদয়ের গভীরতম কোনে থেকে যাবেন বহুদিন। বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ ধন্যবাদ সুদীপ বালাকে পিছিয়ে পড়া ও স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত মানুষদের সাথে আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য। দাকোপ বাসী কখনো ভুলবে না এই কর্মীবান্ধব ডাঃ সুদীপ বালাকে। দাকোপের প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি ডাঃ সুদীপ বালাকে বদলি নয় তাকে আবারো ফিরে আনা হোক অবহেলিত দাকোপের এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষের স্বাস্থ্য সেবায়।

