কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের যুগে কনটেন্টের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যবহারকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্ল্যাটফর্মটি এখন ‘কোয়ালিশন ফর কনটেন্ট প্রোভেন্যান্স অ্যান্ড অথেন্টিসিটি’ বা সিটুপিএ জোটের স্টিয়ারিং কমিটিতে যুক্ত হয়েছে, যা মূলত এআই-নির্ভর কনটেন্ট শনাক্তকরণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে সহায়তা করবে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই নতুন গাইডলাইন তৈরিতে প্রতিষ্ঠান ন্যামলি এবং প্রখ্যাত এআই বিশেষজ্ঞ হেনরি আজদারের সাথে যৌথভাবে কাজ করেছে টিকটক।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার সময় আটক আয়াস
ইন-অ্যাপ এআই হাব ও সচেতনতা কার্যক্রম
প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন ইন-অ্যাপ ‘এআই হাব’ চালু করা হয়েছে। অ্যাপের সার্চ বক্সে এআই সংক্রান্ত কোনো শব্দ লিখে সার্চ করলে ব্যবহারকারীরা সহজেই এই হাবটি খুঁজে পাবেন। এখানে এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চেনার উপায় এবং এই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন ও রিসোর্স দেওয়া হয়েছে। এআই নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ও সঠিক তথ্য প্রদানে টিকটক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বড় বিনিয়োগ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ
এই উদ্যোগের পরিধি ও গুরুত্ব অনুধাবন করে টিকটক বেশ বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সাল থেকে ‘নোফিল্টার’ এবং ‘রাসবেরি পাই ফাউন্ডেশন’-এর মতো বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগগুলোর পেছনে টিকটক এ পর্যন্ত প্রায় ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ সুস্থ রাখা এবং স্প্যাম বা ভুয়া কনটেন্ট প্রতিরোধে টিকটক নিয়মিতভাবে কঠোর নজরদারি বজায় রাখে। এই কঠোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই টিকটক ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ করেছে। মূলত মানুষের আস্থা এবং সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

