কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জনমনে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিরসনে একটি স্বেচ্ছামূলক সমঝোতায় পৌঁছেছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। গত মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনসহ প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী নির্বাহীরা। সমঝোতাটি আপাতত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে এআই উন্নয়নে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন, এআই শিল্পে বর্তমানে ‘সেলফ-পলিশিং’ বা স্বনিয়ন্ত্রণের একটি ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও এখন অনুধাবন করতে পারছে যে, তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। এই দায়বদ্ধতা থেকেই তারা নিজেদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। ট্রাম্প জানান, পুরো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সামগ্রিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় দশ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা এই খাতের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনায় ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পুরো এআই খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে। সমঝোতার মূলকথা হলো, এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির ঝুঁকি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে, তবে তাদের ব্যবস্থাপনা স্বাধীন বহিরাগত নিরীক্ষার আওতায়ও থাকবে। তিনি বলেন, এআই খাতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ‘self-policing’ বা স্বনিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে এবং কোম্পানিগুলোও বুঝতে পারছে যে নিজেদের প্রযুক্তিকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। তবে নথিতে ভবিষ্যতে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আইন ও বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে। সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন স্বাধীন বহিরাগত অডিটর।
অন্যন্য খবর
এই সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গুগল-এর প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, মেটা-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, এনভিডিয়া-এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। এছাড়াও এক্সএআই (xAI)-এর প্রতিনিধিরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন।
বৈঠক শেষে অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যত নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে এআই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বিশাল সক্ষমতাকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং এর ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি খাতের এই যৌথ উদ্যোগের ফলে এআই উদ্ভাবন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন ভারসাম্য তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আমাদের ফেইজবুক

