আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর হাঁটতে শুরু করেছেন ক্রিস্টা

DSF NEWS
DSF NEWS
October 22, 2026 3:19 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার শিকার ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৫০ বছর বয়সী পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্যের সহায়তায় হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি খাবার খেতে পারছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই অসাফল্যের পর বৃহস্পতিবার তার আইনজীবীরা তার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানান। পাশাপাশি তার হাতের নড়াচড়ার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে ফিরছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। গত মাসের শেষ দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পেন্টোবারবিটাল ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়, যা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে তার উভয় হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং শরীরে ফোসকা পড়ে। হাসপাতালে ভর্তির পর শুরুর দিকে তিনি অচেতন ছিলেন এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তা নিয়ে শ্বাস নিতে হয়েছে। অবশেষে গত মঙ্গলবার তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি কথা বলার সক্ষমতা ফিরে পান। বুধবার থেকে তিনি স্বল্প পরিসরে হাঁটার চেষ্টা শুরু করেন, তবে তার পুরোপুরি সুস্থ হওয়া বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি সম্পর্কে চিকিৎসকেরা এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

আরও পড়ুন: যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার

এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে পাইকের ওপর গভীর মানসিক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসার তীব্র যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তায় তিনি বিপর্যস্ত। জ্ঞান ফেরার পর তাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতির প্রেক্ষাপটে, তার আইনজীবীরা টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে তাকে পুনরায় এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়। বৃহস্পতিবারও তার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে সমস্যা অব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন: সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না

এদিকে পাইকের ঘটনায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পদ্ধতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেছেন যে, ইনজেকশনের লাইনটি সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি, যা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলের সদস্যরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুল পদ্ধতির কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে টিস্যুতে জমা হয়েছিল। সরকারি পর্যায়ে এই ঘটনার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেননি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরে নির্ধারিত অন্য একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সূচি স্থগিত করেছেন এবং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই টেনেসির কারা বিভাগের প্রধান তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আরব নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনাটি মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি এবং বন্দিদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।