সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি তৈরি হলে বাংলাদেশ কখনোই নিষ্ক্রিয় থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মক্কা-মদিনা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ঐক্যের প্রতীক। এটি কেবল কূটনীতির বিষয় নয়, বরং আমাদের আবেগের জায়গা। তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে কোনো হুমকি আসলে বাংলাদেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সেখানে তিনি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্র নীতির নানা দিক তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ল
এর আগে প্রতিমন্ত্রী বিআইআইএসএস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের পর প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুতি-সৌদি সংঘাত ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চুয়েটে উপাচার্যসহ ১০ জনের বেশি অবরুদ্ধ, দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা
মক্কা প্যাক্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত এবং সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা জোটে এখনও যোগ দেয়নি। তাই এই মুহূর্তে সেনা পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ সৌদি সরকার ও জনগণের পাশে আছে এবং দ্রুত এই সংঘাত নিরসনের প্রত্যাশা করছে। যদি এই মুহূর্তে সৌদি আরবের প্রয়োজন হয় এবং তারা আমাদের কাছ থেকে সৈন্য চান, আমরা কি সৈন্য পাঠাবো।
সৌদির তেল শোধনাগারে হুতিদের হামলার ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো সংকট দেখছে না সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ বিষয়ে কাজ চলছে এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নেয়া প্রস্তুতিতে কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে এই যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানি সহযোগিতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে আমরা কোনো অসুবিধা দেখছি না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি শিগগিরই এই অবস্থার অবসান ঘটবে।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই হামলায় ২৪ জনেরও বেশি বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। শামা ওবায়েদ দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান চেয়ে বলেন, সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

