চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পেকুয়া ও পটিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে লবণ চাষের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব এলাকার ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার চাষি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানত বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া ও খানখানাবাদসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীতের শুরুতেই এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। এই অঞ্চলে লবণ উৎপাদন শুধু বাণিজ্যিকভাবে হয়, যা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে এবং এই প্রক্রিয়ায় বিসিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
আরও পড়ুন: শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাই
আরও পড়ুন: পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা
উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা, যা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে প্রায় আড়াইগুণ বেশি লবণ উৎপাদনে সহায়তা করে। তবে গন্ডামারা ইউনিয়নের চাষি ফজল আহমদ জানান, উৎপাদনের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া বিদেশি লবণ আমদানির কারণে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। লবণের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীন বলেন, কাগজপত্রে ঘাটতি দেখানো হলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে লবণের ঘাটতি নেই। অবৈধ পথে আসা লবণের কারণে স্থানীয় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং মাঠেই লবণ পড়ে থাকছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যেখানে হাজার হাজার কৃষক আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। কাকডাকা ভোরেই কৃষকরা লবণ মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যদিও কখনো কখনো বৈরী আবহাওয়া তাদের কাজে বাধা দেয়। অবৈধ পথে কিংবা নামেবেনামে লবণ ঠিকই আসছে।
অন্যদিকে বিসিক কক্সবাজার লবণশিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি মণ লবণের বাজার মূল্য ৩৪০ টাকা। তিনি আরও জানান, গত ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৯ হাজার ৯৬৫ একর জমিতে সাত হাজার ৭৪০ জন চাষি লবণ উৎপাদন করেছিলেন। চলতি মৌসুমে চাষি ও জমির পরিমাণ উভয়ই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে মাঠে প্রায় চার লাখ টন লবণ মজুত আছে। দেশে প্রতি মাসে লবণের চাহিদা প্রায় দুই লাখ টন, যার মানে এই মজুত দিয়ে আরও আড়াই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন তুলনামূলক কম হয় বিধায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সরকার লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চলতি বছরে জমি ও চাষির সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

