আজকের সর্বশেষ সবখবর

সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের নতুন মোড়: কূটনৈতিক তৎপরতায় কি বাড়ছে ঘনিষ্ঠতা?

DSF NEWS
DSF NEWS
October 6, 2026 1:18 pm
Link Copied!

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপোড়েন কাটিয়ে কি আবারও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের পথে ফিরছে রিয়াদ ও আবুধাবি? সাম্প্রতিক সময়ের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর ও ধারাবাহিক তৎপরতা এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি আরবে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির মহাসচিব আলী আল শামসি এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান আলী আল নেয়াদিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক কিছু তৎপরতায় তেমন ইঙ্গিতই মিলছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছিল তারা যেন চিরকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমিরাতের কাছে যখন হোদেইদাহ বন্দরসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিরাপদ মনে হওয়া শুরু করল, তখন তারা যুদ্ধ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ এই বৈঠককে দুই দেশের গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছে। উপসাগরীয় কূটনীতির স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই এমন সফর বিনিময় নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যৌথ স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশের এই সমন্বয় এখন আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেন সংকটের মতো জটিল ইস্যুতে অতীতে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে যে মতপার্থক্য ছিল, তা এখন অনেক কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদির ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ছিল তেহরানের লক্ষ্যবস্তু।

ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব এবং আমিরাতের কৌশলগত অবস্থান একসময় অনেকটা আলাদা হয়ে গিয়েছিল। রিয়াদ যেখানে পুরো ইয়েমেনকে হুথিমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছিল, সেখানে আমিরাত ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা ও ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে’ সহায়তা দিচ্ছিল। এছাড়া সুদান ও ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে তাদের নীতি ছিল ভিন্ন। এমনকি ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা ইসরায়েলের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের মতো বিষয়ে আমিরাতের সাহসী পদক্ষেপ রিয়াদ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছিল। তবে সেই দূরত্ব কমিয়ে এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার খাতিরে দেশ দুটি আবার এক কাতারে আসছে। যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সমন্বয়ের লক্ষ্যে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রায়ই যাতায়াত করে থাকেন।’। এ কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছিল আমিরাত।

সাম্প্রতিক এই কূটনীতির পেছনে আঞ্চলিক অস্থিরতার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হুমকি ও হরমুজ প্রণালীসহ স্পর্শকাতর অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রিয়াদ ও আবুধাবির প্রধান চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরের দিনই মনসুর বিন জায়েদের সৌদি সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির দিকে ছিল, তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো এবং ইরান ও হুথিদের মতো অভিন্ন হুমকি মোকাবিলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে হুথির হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের পরিবর্তে পাকিস্তান ও পুরোনো শত্রু তুরস্কের দিকে ঝুঁকেছে রিয়াদ। মজার ব্যাপার হলো, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের ঠিক পর দিনই সৌদি সফরে যান আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদ।

গত বুধবার সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করেছেন যে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলা মূলত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত। তিনি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে মিলে নিরাপত্তা জোরদার ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত ইয়েমেনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সৌদি আরব এখন নতুন কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলে মনোযোগী হয়েছে, যাতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা হ্রাস পায়।

এর আগে জুলাই মাসে ন্যাশনাল মিডিয়া অথরিটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল্লাহ আল হামেদ দুই দেশের অটুট সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এরপর আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ সৌদি বাদশাহ সালমানকে আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো বহিঃশক্তির ওপর একক নির্ভরতার চেয়ে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত চাপের কার্যকারিতা বেশি—এই বোধ থেকেই সৌদি ও আমিরাত তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্ব পুনরায় ঝালাই করে নিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যে আঞ্চলিক অখণ্ডতার স্বপ্ন নিয়ে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতায় রিয়াদ ও আবুধাবি সেই ঐক্যকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

আমাদের ফেইজবুক পেইজ

আমাদের টেলিগ্রাম

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।