ইরানের সঙ্গে ফের বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় নতুন করে দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন ও এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা। মূলত ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশ দুটিকে আশ্বস্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানে ফের হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইরান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে নাকি দেশটির অস্তিত্ব থাকবে, তা নিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গত আগস্ট মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সে সময় সৌদি ও কাতারের শীর্ষ নেতারা সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের উদ্বেগের বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছিল, যার ফলে শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলার বদলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নেওয়া হয়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় সৌদি আরবে একটি এবং কাতারে একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি কার্যকর রয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রিয়াদ সেই অনুমতি দিতে অনাগ্রহী থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স কোনো মন্তব্য করেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য আঞ্চলিক কমান্ড থেকেও সরঞ্জাম সরিয়ে আনছে। এর ফলে অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ ও বিমান শক্তির উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। রোববার সান দিয়েগো থেকে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যাত্রা শুরু করেছে, যা নভেম্বরের মাঝামাঝি পৌঁছাতে পারে। এটি সেখানে অবস্থানরত ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং জাপান থেকে আসা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ গঠন করতে পারে। এছাড়া সোমবার মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে। তিনটি উভচর জাহাজ এবং ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার মেরিন নিয়ে গঠিত এই বহর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে, যা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরালো করবে।

