ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি এবার জনসমক্ষে স্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’-এ প্রকাশিত এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। যদিও ট্রাম্প সরাসরি বড় কোনো সংকটের কথা বলেননি, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু নির্দিষ্ট ধরণের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় বর্তমানে কমে গেছে।
এই অস্ত্র সংকট মোকাবিলায় বর্তমান গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি সমাধানে মার্কিন প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সারা দেশে নতুন নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নতুন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও তিনি ক্ষেপণাস্ত্রের নির্দিষ্ট মজুত বা ঘাটতির বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছেন।
একই সাক্ষাৎকারে ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থানের একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি পূর্বে দাবি করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এবার জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তার প্রশাসনের। নির্বাচনী কৌশল ও যুদ্ধের এই নতুন পরিকল্পনার বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আমেরিকান জনমনে এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং এনওআরসি সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার কৌশলের ওপর বর্তমানে মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান আস্থা রাখছেন। ট্রাম্পের পুরো মেয়াদকালের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন জনসমর্থন বলে জরিপে জানানো হয়েছে। যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

