কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমদ্দি গ্রামে সমন্বিত কৃষি পদ্ধতিতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন ওয়ালি উল্লাহ। নিজের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় পুকুরে মাছ এবং পুকুর পাড়ে সবজি চাষের মাধ্যমে তিনি এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে নতুন গ্রামীণ সড়ক তৈরির পর সেই সংলগ্ন এলাকাটিকে তিনি সৃজনশীলভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন। জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওয়ালি উল্লাহর বাড়ির দক্ষিণ পাশ দিয়ে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে একটি নতুন গ্রামীণ সড়ক।
শখের বশে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ১৬ শতক জমি কেটে একটি পুকুর খনন করেছেন তিনি। এই পুকুরে তিনি কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা প্রজাতির প্রায় চার হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন। নিয়মিত সম্পূরক খাবার দেওয়ার ফলে মাছগুলো দ্রুত বড় হচ্ছে এবং বর্তমানে প্রতিটি মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় ইঞ্চি হয়েছে। পুকুরের পরিবেশ ও মাছের ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মাছ আহরণ করে বাজারে বিক্রির পাশাপাশি পরিবারের চাহিদাও মেটাচ্ছেন। ১৬ শতকে মাছের সমারোহ কথা বলে জানা গেল, শখের বশেই বাড়ির দক্ষিণের ১৬ শতাংশের একখণ্ড জমি কেটে এই পুকুর করেছেন ওয়ালি উল্লাহ। পুকুরের পানিতে মাছের উচ্ছ্বাস, আর পাড়জুড়ে সবুজের সমারোহ। শরতের শান্ত বিকালে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে। এ সময় ওয়ালি উল্লাহ পুকুরে মাছের খাবার দেন, আবার একই সঙ্গে পাড়ের সবজির চারাগুলোরও পরিচর্যা করেন। সযত্নে বেড়ে ওঠা মাছগুলো এখন প্রায় ছয় ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং পুকুরের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি মাঝে মাঝেই কিছু মাছ ধরে নেন।
পুকুর পাড়ের অব্যবহৃত জায়গাটিকেও তিনি অত্যন্ত লাভজনকভাবে কাজে লাগিয়েছেন। সেখানে গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত শাকসবজির বাগান। পাশাপাশি প্রায় এক বিঘা জমিতে লাউ, চিচিঙা ও ঝিঙার চাষ করেছেন। বাঁশের মাচায় লকলকিয়ে বাড়ছে লাউগাছ, সেই সঙ্গে বেগুন, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করছেন। সবজির পাশাপাশি তিনি সেখানে পেঁপে, আম ও কলার চারা রোপণ করেছেন, যা তার পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে এই সমন্বিত খামার ইতিমধ্যে পথচারীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, ওয়ালি উল্লাহর এই উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহিত করবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা এবং সরকারি কৃষক কার্ডের সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ১৬ শতকের পুকুরে তার এই মাছ চাষের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে মাছের সঠিক ফলন পেতে পুকুরের আয়তন অনুযায়ী পোনার সঠিক অনুপাত বজায় রাখা জরুরি। মৎস্য বিভাগ তাকে মাছ চাষে আরও দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

