ইফতিয়াজ সুমন, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও লন্ডন প্রবাসী পলাশ খানে’র পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের ৪টি উপজেলায়( ধর্মপাশা,মধ্যনগর, জামালগঞ্জ,তাহিরপুর) ১০০টি ঘর উপহার দেন পলাশ খান। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের মাধ্যমে এই মানবিক কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও গৃহহীন ও অসহায় পরিবারকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা,মধ্যনগর,জামালগঞ্জ,তাহিরপুর বিভিন্ন উপজেলার গৃহহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই উদ্যোগ। একটি নতুন ঘর শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়—একটি পরিবারের জন্য এটি নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নিজের একটি ঠিকানা। নতুন ঘর পেয়ে পরিবারগুলো নিজেদের ঘরে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ পাবে, পূরণ হবে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন। প্রবাসে থেকেও দেশের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে প্রশংসা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় অসহায় পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে। মাথার ওপর একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ছাদ পেয়ে আনন্দ-শ্রুতে ভেসেছেন সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। তাদের চোখে-মুখে এখন শুধুই স্বস্তি আর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পলাশ খানের এই বিশাল উদারতা ও মানবসেবামূলক কাজ পুরো অঞ্চলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিঃস্ব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করছে। মানুষ তো অনেকেই হয়, কিন্তু মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো বিশাল হৃদয় ক’জনেরই বা থাকে? প্রবাসের ব্যস্ত জীবন আর হাজারো ব্যস্ততার ভিড়েও নিজের দেশের অসহায় মানুষের কথা ভুলেননি আমেরিকা প্রবাসী পলাশ খান। তাঁর ব্যক্তিগত বিশেষ মানবিক উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ১০০টি গৃহহীন ও অসহায় পরিবারের জন্য ১০০টি নতুন ঘর। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, পলাশ খান প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি এবং দেশের মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের ফলে ১০০টি পরিবারের জীবনের গল্প চিরতরে বদলে গেল।
প্রবাসী পলাশ খান বলেন, আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া ও গৃহহীন মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল লক্ষ্য। আজ ১০০টি অসহায় পরিবারের মাথার ওপর স্থায়ী একটি ছাদ উপহার দিতে পেরে আমি গভীরভাবে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। এটি কেবল একটি ঘর নয়, এটি তাঁদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি নতুন সূচনা। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মানবিক কাজে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি, সে জন্য আমি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।

