বিমান ক্র্যাশে বেঁচে যাওয়ার ৬ দিনের মাথায় কোটিপতি জীবনে মানুষের ভাগ্যের চাকা কতটা অদ্ভুতভাবে ঘুরতে পারে, তার সবচেয়ে বড় বাস্তব প্রমাণ হলো ২০১৬ সালের এই ঘটনাটি।
মোহাম্মদ বশীর আব্দুল খাদার নামের এক ভারতীয় প্রবাসী দুবাইতে কাজ করতেন। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে ভারত থেকে দুবাই ফেরার পথে তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ‘EK521’ ফ্লাইটে ওঠেন। তবে ফ্লাইটে ওঠার আগে তিনি দুবাই ডিউটি ফ্রি-এর একটি লটারি টিকিট কিনেছিলেন—যেটা অনেক যাত্রীই নেহাত শখের বশে কিনে থাকেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ফ্লাইটটি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং রানওয়েতেই বিমানটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জরুরি উদ্ধারকাজ (Emergency evacuation) পরিচালনার ফলে বিমানের ৩০০ জন যাত্রীর সবাই বেঁচে যান। বশীরও ছিলেন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যিনি নিশ্চিত মৃ/ত্যু/র হাত থেকে ফিরে আসেন।
কিন্তু চমকের তখনো বাকি ছিল! এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ট্রমা কাটতে না কাটতেই মাত্র ছয়দিন পর তিনি জানতে পারেন, বিমানে ওঠার আগে তার কেনা সেই লটারি টিকিটটি প্রথম পুরস্কার জিতেছে। পুরস্কারের অঙ্ক ছিল পুরো ১ মিলিয়ন ডলার!
পরিসংখ্যান ও বিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো মানুষের জীবনে একই সপ্তাহে একটি মারাত্মক প্লেন ক্র্যাশ থেকে বেঁচে ফেরা এবং মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা (Probability) বিলিয়নে এক ভাগেরও কম। অর্থাৎ গাণিতিকভাবে এটি প্রায় অসম্ভব ঘটনা, যা বশীরের জীবনে বাস্তবে রূপ নিয়েছিল।
ছবিতে সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি মোহাম্মদ বশীর। এভাবে বেঁচে ফেরা এবং লটারি জেতার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, এই টাকা তিনি নিজের দেশে ফিরে কৃষিকাজ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাহায্যে ব্যয় করবেন।

