DSF NEWS
ঢাকা Tuesday, 6 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আনদোলন
  6. আর্ন্তজাতিক
  7. উদ্ধার
  8. উদ্বোধন
  9. ক‌মি‌টি
  10. কৃষি
  11. খেলা
  12. গণমাধ্যম
  13. জাতীয়
  14. টেক রিলেট
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফেরাতে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

DSF NEWS
DSF NEWS
October 6, 2026 4:53 pm
Link Copied!

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরিভিত্তিতে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তিন বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা এবং রাজস্ব আদায়ে নিম্নগতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত কার্যকর সংস্কার সম্পন্ন করা গেলে অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। প্রধান অর্থনৈতিক সূচক ও সংকটের চিত্র। বৈশ্বিক এই ধাক্কা সামলানোর জন্য বাংলাদেশের বৈশ্বিক রিজার্ভ সুরক্ষা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা সীমিত।

দেশের অর্থনীতির বর্তমান সূচকগুলো বেশ উদ্বেগের। ২০২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৫ শতাংশে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২০২৫ সালে ২১.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, সংঘাতের প্রভাব না থাকলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে আঘাত: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে আনুমানিক ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হয়ে আসার কথা ছিল।

ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের নাজুক পরিস্থিতি দেশের প্রবৃদ্ধিকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার (NPL Ratio) ৩০.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মূলধন পর্যাপ্ততার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই রাজস্ব ঘাটতি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগের সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপের কারণে চলতি হিসাবের ভারসাম্যও চাপের মুখে পড়েছে। প্রবৃদ্ধি ও বহিরাগত ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, সরকারের জ্বালানি ভর্তুকি বেড়ে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হতে পারে। খাদ্যাভিগম্যতা ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দীর্ঘদিনের যে সহনশীলতা ছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং আর্থিক খাতে সাহসী সংস্কার ছাড়া এই সহনশীলতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে হলে অবিলম্বে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।