লিমন হায়দারঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বন বিভাগের জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন মধ্যপাড়া রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম।এ সময় তাঁকে ও তাঁর দলের সদস্যদের লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘিরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রউফ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পরে এক সাংবাদিকের উপস্থিত বুদ্ধিতে তাঁরা সেখান থেকে নিরাপদে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় বিট কর্মকর্তাকে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বন বিভাগের আওতাধীন শুকান পুকুর নামের একটি দিঘির পাড় ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে মাটি বিক্রির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিট কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুর রউফ ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ঘিরে ফেলেন। এ সময় তাঁদের প্রত্যেকের হাতে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে জানান বিট কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত বিট কর্মকর্তা এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি।তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৬ জনকে আসামি করে বন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে সরেজমিনে গেলে আব্দুর রউফ ও তাঁর সহযোগীদের আগ্রাসী আচরণ দেখা যায়। এ সময় আব্দুর রউফ দাবি করেন,ওই জমি তাঁদের এবং দখলও তাঁদের। সেখানে বন বিভাগের লোকজন কেন আসেন,তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একপর্যায়ে সংবাদকর্মীদের সামনেই হুমকি দিয়ে বলেন, এরপরও বাড়াবাড়ি করলে বিট কর্মকর্তার হাত-পা কেটে নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে কথা হয় ভেকু মেশিনের মালিক আফজাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি’র) অনুমতি নিয়েই তাঁরা মাটি কাটছেন।
তবে অনুমতির বিষয়ে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার মুঠোফোনে জানান, তিনি শুনেছেন জায়গাটি বন বিভাগের। এ ধরনের অনুমতি নেওয়ার এখতিয়ার বন বিভাগের। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে পরদিনই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বন বিভাগের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বন কর্মকর্তাকে ঘিরে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বনভূমি রক্ষা ও সরকারি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: জাবির আইন ও বিচার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রবিউল ইসলামের তৃণমূল প্রেস সোসাইটিতে থাকার সম্মতি

