মোঃ রমজান আলীঃ ঝিনাইদহঃ অবশেষে দীর্ঘ ১৮ মাস পর আসামী মাশরিকুল রহমান জিম এর প্রদত্ত তথ্য মোতাবেক সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম আসামীকে সাথে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেল স্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল সনাক্ত করে। তদন্তের এক পর্যায়ে টিমের সদস্যগণ জানতে পারে যে, ওই সময়ে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নামা মৃতদেহটিই হচ্ছে নিঝুম খাতুনের। আজ মঙ্গলবার আসামী মাশরিকুল রহমান জিম কিশোরী নিঝুম হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বর্ননা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে!
২০২৫ সালে ১৩ মার্চ ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন ফতেপুর গ্রামের তারিখে মোছাঃ নিঝুম খাতুন (১৭) নামের এক কিশোরী থেকে নিখোঁজ হয়। তার মা মোছাঃ তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে এই সংক্রান্তে মহেশপুর থানায় গত ইং ০৮/০৪/২০২৫ তারিখে সাধারণ ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে ভিকটিম উদ্ধার না হওয়ায় ভিকটিমের মা একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও কিশোরী নিঝুমের সন্ধান মেলেনা।
অবশেষে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের চৌকস টিম কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় পুলিশ মহেশপুরের রাখালভোগা গ্রামের কামাল হোসেনেরে ছেলে মাশরিকুল রহমান জিম হেফাজতে নেয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিলে সে নিঝুম খাতুন হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। আসামী মাশরিকুল রহমান জিম জানায়, ভিকটিম নিঝুমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
২০২৫ সালের ১৩ মার্চ সে বেড়ানোর কথা বলে কিশোরী নিঝুম’কে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেল স্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে তারা জনশূন্য পাকশী রেল লাইনের উপরে প্লাটফর্মে বসে সময় কাটায়। এসময় ভিকটিম নিঝুম আসামী জিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে আসামী ও ভিকটিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় আসামী জিম নিঝুমকে সজোরে থাপ্পড় মারে।
তখন নিঝুম অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। সেখান থেকে আসামী সে নিঝুম’কে টেনে হিঁচড়ে রেল লাইনের নিচে নির্জন জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায় এবং তার পরনের ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মাথার উপর পা দিয়ে সজোরে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিঝুমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে আসামী জিম লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে ডেডবডি ফেলে রেখে ট্রেনযোগে পালিয়ে যায়। গত ১৭ই মার্চ দুপুরে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় এ সংক্রান্তে ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। তখন মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে উক্ত লাশটি পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় কবরস্থ করা হয়।

