কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন। রাতে তাঁর ঘুম আসে না এবং তিনি ভীতির মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে রাহুল সরাসরি বলেন, ‘আমি জানি, উনিও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন। তাঁর উচিত, রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।’ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের পথে কংগ্রেস
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল আরও জানান, প্রধান বিচারপতি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়। রাহুল বলেন, ‘ওরা প্রচার করছে যে প্রধান বিচারপতি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। কিন্তু আসল বিষয় হলো, প্রধান বিচারপতি আমাদের পথ বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা যেন পিটিশন বা আবেদন ফাইল করি। সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি। আজই বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই আবেদন আমরা জমা দেব।’ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন না ভারতের প্রধান বিচারপতি। মোদি ভারতের জন্য ‘অস্বস্তির কারণ’: মুক্তির পর প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দিপকে। আকাশবাণী ভবনে ভেবেচিন্তে আমরা যাইনি।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়ল
সংবিধান রক্ষার লড়াই
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেছেন যে, এই লড়াই নিছক রাজনৈতিক নয়, বরং সংবিধান ও দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। তিনি বলেন, ‘এই লড়াই সংবিধান রক্ষার লড়াই। দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। আপনাদের, আমাদের সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে যেভাবে পারুন, এই লড়াইয়ের শামিল হোন।’ জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি পদত্যাগ করুন। রাজসাক্ষী হয়ে যান। এটাই প্রায়শ্চিত্তের উপায়। আপনি অন্যায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু মূল অপরাধী আপনি নন। মস্তিষ্ক আপনার নয়।’ দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, ‘এই লড়াই সংবিধান রক্ষার লড়াই। পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, আমরাও সেভাবে অগ্রসর হব।’।
আরও পড়ুন: গুলশানের দুই বারে অভিযান: শতাধিক নারী আটক, পরে মুচলেকা
মূল অপরাধী কারা?
রাহুল গান্ধীর মতে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল এবং গৌতম আদানিরা ক্রমাগত সিইসির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন, যার ফলে সংবিধান বিপন্ন। তিনি বলেন, ‘এটি এক দিনের লড়াই নয়। দিল্লিকে দুর্গের মতো ঘিরে রাখা হয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ রাস্তায় নামানো হয়েছে। তাঁরা ক্লান্ত। তবে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা গোপনে আমাদের বলছেন, আপনারা যা করছেন ঠিক করছেন।’ তিনি বলেন, ‘৫০ শতাংশ পুলিশ চায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাই। এই লড়াইয়ে জেতার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য
রাহুল দাবি করেন, দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা, যাঁদের মধ্যে ইডি, সিবিআই ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আধিকারিকরাও রয়েছেন, তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সরকারের গোপন তথ্য নিয়মিত সরবরাহ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়। যন্তর মন্তরেও যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। রাজঘাটে প্রার্থনা করেছি। এখন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি।’ কোনো কিছু পরিকল্পনা করে আগাম ভেবে করছি না।
আন্দোলনের রূপরেখা
- যত দিন জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দেবেন না, তত দিন কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
- বিজেপির মধ্যে যাঁরা বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের সংবিধান রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল।
- পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রদর্শন করে রাহুল বলেন, এই লড়াই কঠিন, কিন্তু ধৈর্য ও অধ্যবসায় ছাড়া জেতা সম্ভব নয়।
- সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছক নয়, পরিস্থিতির নিরিখেই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হচ্ছে।

