DSF NEWS
ঢাকা Tuesday, 6 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আনদোলন
  6. আর্ন্তজাতিক
  7. উদ্ধার
  8. উদ্বোধন
  9. ক‌মি‌টি
  10. কৃষি
  11. খেলা
  12. গণমাধ্যম
  13. জাতীয়
  14. টেক রিলেট
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৬ সরকারি মেডিকেল কলেজে চরম সংকট, তবুও নতুন অনুমোদন

DSF NEWS
DSF NEWS
October 6, 2026 1:15 pm
Link Copied!

দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অধিকাংশ বর্তমানে ভয়াবহ সংকট ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ১৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব জমি, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষকের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে পাবনা, গোপালগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাগুরা, চাঁদপুর ও সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। এসব কলেজ তুলনামূলকভাবে নতুন, প্রতিষ্ঠাকাল ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল।

দেশের মোট ১১০টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩৭টি সরকারি এবং বাকিগুলো বেসরকারি ও সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে। তবে অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজই গড়ে উঠেছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে, যেখানে নেই ন্যূনতম শিক্ষা পরিবেশ। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের উদাহরণ দিলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব জমি মেলেনি। ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে কলেজটি চলছে তিন হাজার বর্গফুট জায়গায়, যেখানে মাত্র পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আটতলা হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও অষ্টম তলায় মেডিকেল কলেজ চলছে। নেই শিক্ষার্থীদের আবাসনব্যবস্থা বা হোস্টেল। এমনই একজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রত্যেক মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল থাকে।

একইভাবে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের পরিস্থিতিও নাজুক। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি হাসপাতালের চিকিৎসক কোয়ার্টারের চারটি ভবনকে একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করছে। নওগাঁ, মাগুরা ও নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অবস্থাও একই; এদের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, আট কিলোমিটার দূরবর্তী সদর হাসপাতালে তাদের যাতায়াত করতে হয়, যা দীর্ঘদিনের পুরনো সংকট। কিন্তু এই হাসপাতালে রেজিস্ট্রার না থাকায় আমাদের কাজের তদারক করার কেউ নেই।

শিক্ষকসংকটের চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। মাগুরা মেডিকেল কলেজে ৮৪টি পদের মধ্যে ৫২টিই খালি, অর্থাৎ ৬২ শতাংশ পদ ফাঁকা। সুনামগঞ্জে ৪৫ শতাংশ এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ৩৯ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে। মৌলিক আটটি বিষয়ে অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের মোট ২৭২টি পদের মধ্যে মাত্র ১০০ জন কর্মরত আছেন। নওগাঁ মেডিকেল কলেজের মৌলিক বিষয়গুলোর ১৪টি পদের সবকটিই শূন্য, যা মেডিকেল শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

মেডিকেল শিক্ষার অপরিহার্য অংশ হলো আইটেম ও কার্ড পরীক্ষা, যা শিক্ষকস্বল্পতার কারণে ঠিকমতো সম্পন্ন হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা জানান, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কম থাকায় তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছেন। মাগুরাসহ অন্যান্য কলেজে নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় টিউটোরিয়াল ক্লাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে অপরিকল্পিতভাবে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের মাসুল দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিদ্যমান কলেজগুলোতে চরম অস্থিরতা ও সংকটের পরও নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া থামেনি। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় মুন্সিগঞ্জে নতুন মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এর ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। নৌবাহিনীকে চট্টগ্রামে একটি মেডিকেল কলেজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং নরসিংদীতে ১০০ শয্যার হাসপাতালকে কেন্দ্র করে নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল কলেজের জন্য কমপক্ষে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকা বাঞ্ছনীয়। হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালটির অবস্থান শহরের প্রায় কেন্দ্রস্থলে।

পরবর্তী সরকার গঠনের পর ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট সমাধান না করেই একের পর এক নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের এই ধারা স্বাস্থ্য শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই সাইটে নিজস্ব নিউজ তৈরি করে প্রকাশ করে থাকি। এই সাইটের সংবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগ, আপত্তি বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে info@dsfnews.com-এ জানান। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।