FAS ডেস্ক নিউজঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে আটক স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশেই পুলিশ ওই শিক্ষককে থানা থেকে মুক্তি দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। বিষয়টি নিয়ে ক্লাসে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে। ওই সময় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গটি আলোচনায় উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাস পরিচালনার সময় শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে কটূক্তি করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এই ঘটনা জানাজানি হলে বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই সঙ্গে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে শিক্ষক লালনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হন। মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে সমাজে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মান, ইতিবাচক আচরণ এবং সহাবস্থানের সংস্কৃতিই সমাজকে শক্তিশালী করে তোলে। মূলত এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী ওই শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উদার অবস্থান ও নির্দেশের পর পুলিশ তাকে মুক্ত করে নিরাপদে বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান ঘটে। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। পোস্টে আরও বলা হয়, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি। পরে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

