মোঃ শামীম হোসেন – খুলনা: সাপের ছোবল নয়, অজ্ঞতাই যেন না কেড়ে নেয় প্রাণ দাকোপে আন্তর্জাতিক সর্প দিবসে সচেতনতামূলক র্যালি-আলোচনায় সাপ হত্যা নয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সংরক্ষণের আহ্বান। একটি সাপ দেখলেই আতঙ্ক, তারপর শুরু হয় লাঠি হাতে ধাওয়া। অনেক সময় বিষধর সাপের কামড়ের পরও হাসপাতালে যাওয়ার বদলে ছুটতে হয় ওঝা-কবিরাজের কাছে। এতে সময় নষ্ট হয়ে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি। অথচ একটু সচেতনতা, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সঠিক চিকিৎসাই পারে সাপের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে। সাপ নিয়ে মানুষের ভয় ও নানা কুসংস্কার দূর করে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে খুলনার দাকোপে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সর্প দিবস। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় সচেতনতামূলক র্যালি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র্যালিটি হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। পরে হাসপাতালের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাপ শুধু মানুষের আতঙ্কের প্রাণী নয়; প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই অকারণে সাপ হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সুদীপ বালা বলেন, সাপের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো জরুরি। ওঝা-কবিরাজ কিংবা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সাপের কামড়ের রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সাপের কামড়ের পর করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। সভায় সাপের কামড়ের পর তাৎক্ষণিক করণীয়, চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব, সাপ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দাকোপ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শামীম হোসেন, দাকোে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, সাপকে ভয় নয়, সাপ সম্পর্কে জানতে হবে। আর সাপের কামড়কে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে দ্রুত নিতে হবে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত। সচেতনতা বাড়লেই কমবে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি, পাশাপাশি রক্ষা পাবে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাণী।

