মুহাম্মদ এমরান, (চট্টগ্রাম): পবিত্র কুরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ের হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে চট্টগ্রামের আনন্দবাজার বন্দর থানাধীন মুহাম্মদিয়া (স.) তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসার খুদে হাফেজরা। হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত ৩১তম জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ অংশ নিয়ে থানা ও জেলা পর্যায়ে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে থানা পর্যায়ে ৭ জন এবং জেলা পর্যায়ে ৪ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে মাদ্রাসার আরও ৩ শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতায় ১০ পারা গ্রুপে প্রথম ও সপ্তম এবং ২০ পারা গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এমন ধারাবাহিক সাফল্যে মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ৩১তম জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপে অংশ নেয় মুহাম্মদিয়া (স.) তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপে থানা পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে জেলা পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয় তারা। থানা পর্যায়ে ৭ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হওয়ার পর জেলা পর্যায়েও ৪ জন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে। পরবর্তী ধাপে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৩ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিযোগিতায় ১০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে মোঃ নুরুল্লাহ আল রাফি এবং সপ্তম স্থান অর্জন করে মোঃ আফিন ইসলাম জুনাইদ। অন্যদিকে, ২০ পারা গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে মোহাম্মদ মিরাজ। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ১০ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী মোঃ নুরুল্লাহ আল রাফিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া গত ৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের দারুল আবরার মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও বিজয়ীদের সম্মাননা জানানো হয়।
এদিকে, আগামী ২২ নভেম্বর সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মেয়র গলিতে অবস্থিত সুলতানিয়া ইসলামিক একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে আট জেলার বিজয়ীদের অংশগ্রহণে ৩১তম বিভাগীয় জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মুহাম্মদিয়া (স.) তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষার্থী ইয়েস কার্ড পেয়েছে। ফলে বিভাগীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভা ও যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির খুদে হাফেজরা।
মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোঃ জাহেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। পবিত্র কুরআনের খেদমত এবং যোগ্য হাফেজ গড়ে তোলাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। থানা ও জেলা পর্যায়ে সাফল্যের পর এবার বিভাগীয় পর্যায়েও তারা ভালো ফলাফল করবে বলে আমরা আশাবাদী। এ অর্জনের পেছনে শিক্ষকদের পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস অধ্যবসায় রয়েছে। সবার কাছে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া কামনা করছি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, বরং কুরআন শিক্ষার প্রসার ও নতুন প্রজন্মকে পবিত্র কুরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। থানা পর্যায়ে ৭ জনের সাফল্য, জেলা পর্যায়ে ৪ জনের বিজয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ জনের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রতিষ্ঠানটির জন্য এক অনন্য অর্জন। পাশাপাশি ১০ পারা গ্রুপে প্রথম ও সপ্তম এবং ২০ পারা গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন মাদ্রাসাটির সাফল্যকে আরও গৌরবান্বিত করেছে। ভবিষ্যতে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও আরও বড় সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেবে, এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
আরও পড়ুন: র্যালি আলোচনা সভা ও চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে নবাবগঞ্জে সমবায় দিবস পালন

