যন্তর মন্তরে কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আজ শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লির ১৫টি জেলা থেকে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে এমন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনকে আটক করেছে। এছাড়াও, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লোক সমাগমে প্ররোচনা দিতে পারে এমন ব্যক্তিদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের বাড়ির বাইরেও পুলিশের বাড়তি সতর্কতা রয়েছে। পুলিশ বলেছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে এসব জেলা থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন ‘অপরাধী’কে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাঁরা এ কর্মসূচিতে লোক জড়ো করতে কিংবা সাধারণ মানুষকে অংশ নিতে প্ররোচিত করতে পারেন, এমন কিছু ব্যক্তির গতিবিধির ওপরও কড়া নজর রাখছে পুলিশ। ফলে রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চলে গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন
বিক্ষোভের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ শনিবার দিল্লির মোট ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলে বড় জমায়েত ঠেকাতে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যে স্টেশনগুলো এই তালিকার বাইরে রয়েছে, সেখান থেকে নিয়মিত যাতায়াত করা যাবে এবং মেট্রো পরিষেবা সচল থাকবে। যাত্রীদের প্রয়োজনে কাছের স্টেশন থেকে বাস বা অন্য যানবাহনের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় অংশে যানজটের আশঙ্কায় যাত্রীদের হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি মেট্রো রেলস্টেশন ছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্য মেট্রো স্টেশনগুলোয় যাত্রীদের এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার সুবিধা চালু থাকবে। বিক্ষোভস্থলে বড় দলকে পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই কয়েকটি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বাস, ট্যাক্সি বা অটোরিকশায় গন্তব্যে যাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: দিল্লি বিমানবন্দরে আটক ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ
রেল যোগাযোগেও বড় প্রভাব পড়েছে। যানজটের আশঙ্কায় ভোর ৪টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর যাত্রা শুরুর স্টেশন থেকেই বাতিল করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা আইআরসিটিসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকেটের টাকা ফেরত পেতে আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য যাত্রীদের আনন্দ বিহার টার্মিনাল, পুরোনো দিল্লি কিংবা সরাই রোহিল্লা স্টেশন ব্যবহারের বিকল্প পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রাক্কালে দিল্লির আবগারি দপ্তর ৯ ও ১০ অক্টোবর পুরো শহরের খুচরা মদের দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বিপণিবিতানসহ সব ধরনের দেশি ও বিদেশি মদের আউটলেটে কার্যকর থাকবে। তবে আবগারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে লাইসেন্সধারী বার, ক্লাব ও রেস্তোরাঁগুলো; সেখানে নিয়মিত মদ্যপান ও পরিবেশন চালু থাকবে।
নমো ভারত ট্রেন পরিষেবার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। সরাই কালে খাঁ ও নিউ অশোক নগর স্টেশন দুটি ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে আনন্দ বিহার থেকে উত্তর প্রদেশের মোদিপুরাম পর্যন্ত নমো ভারত ট্রেন চলাচল পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিক থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে দিল্লি প্রশাসন জনজীবন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

