ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সরাসরি সমর্থন ঘোষণা করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন, তাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন। এর পরিবর্তে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না। তবে নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি। এরপর ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করাই তার প্রধান বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, প্রস্তাবটি যথেষ্ট ছিল না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, বিরোধী প্রার্থী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে ওয়াশিংটন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম কি না। জবাবে তিনি আইজেনকোট সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক তথ্য শোনেননি বলে জানান। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হয়েছিল, যদিও তিনি নিজে তেমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই বারবার ফিরে এসেছেন। নিজের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ট্রাম্প দাবি করেন যে, অতীতের নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে ইসরায়েলের জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রায় ৯৯ শতাংশ। সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রতি নিজের জনপ্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক অভিযানের বিষয়টিও উঠে আসে। ট্রাম্প জানান, শুরুতে এই অভিযান চার থেকে আট সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও পরে তিনি ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অভিযান দীর্ঘায়িত হয়। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তে ইরান যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত এই নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বিমান হামলা জোরদার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প শুরুতে এটি ‘সম্ভব’ বলে মন্তব্য করলেও, পরে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে ইরান কিছু সময়ের জন্য কার্যকর প্রভাব তৈরি করতে পেরেছিল বলেও স্বীকার করেন ট্রাম্প। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

