পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি করা গরু নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক ব্যবহারের দৃশ্য স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গলাচিপা থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ (২৭) তাঁর পাঁচটি গরু গোয়ালঘরে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডাকাডাকির শব্দে ঘুম থেকে উঠে তিনি গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন, দুটি গাভী নেই। পরে আশপাশে খোঁজ করেও গরু দুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, চুরি যাওয়া গরু দুটির মোট আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি লাল রঙের চার মাসের গাভিন গরুর মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা এবং কালো রঙের অপর গাভীটির মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে স্থানীয় কালারাজা বাজারের একটি হার্ডওয়্যার দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে মেট্রো-ন-২২-১৯৮১ নম্বরের একটি ট্রাকে করে চুরি করা গরু নিয়ে কয়েকজনকে চলে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ট্রাকের মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে মো. স্বপন শরীফ (৪০), মো. সবুজ গাজী (৩০), মো. ইমরান হাওলাদার (৩২), মো. মাসুম খান (৩৫), মো. বশির হাওলাদার (৫৫) ও মো. দুলাল হাওলাদার (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়ি গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নে। তাঁর বাবার নাম মো. হোসেন খান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে রাতের বেলায় নজরদারি বাড়ানো এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

